সর্বশেষ আপডেট
Home » bn » আমিরুল মো’মিন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)

আমিরুল মো’মিন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)

sadasd
লিখেছেনঃ আলহাজ্ব আল্লামা খাজা আরিফুর রহমান তাহেরী (এম.এম)

জীবন যাপন:
হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) ছিলেন খুবই নরম হৃদয়ের মানুষ এবং সাদাসিধে জীবন-যাপন করতেন
আব্দুল্লাহ ইবনে আবু মুল্লায়কা থেকে বর্ণিত কেও যদি হযরত সিদ্দিকে আকবর (রাঃ) কে ইয়া খালিফাতুল্লাহ
বলে সম্বোধন করতেন তখন তিনি বলতেন আমাকে খলিফাতুর রাসুল বল (ইযাতুন খাফা)।সুবাহানাল্লাহ।
কেমন নবী প্রেমিক একবার ভাবুন। তিনি বায়তুল মাল থেকে খুবই সামান্য অর্থ গ্রহণ করতেন।তিনি আত্মম্ভরিতা মুক্ত ছিলেন, সিদ্দিকে আকবরের নিকট পরকাল ভীতি ছিল অনেক ।কুরআনে পাক তেলাওয়াতর সময় খুব বেশী কান্নাকাটি করতেন।আর এই কথা বলে মুনাজাত করতেন আর কান্নাকাটি করতেন, “হে খোদা আমার কি অবস্থা হবে,আমার কাছে তো কোন নেকী নেই ।মন্দ আমল খুব বেশী,কিন্ত ইবাদত খুব কম।“ হায় আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)যদি এই কথা বলে তাহলে আমাদের কি অবস্থা হবে,তিনিত জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছেন,হে খোদা আমাদের ক্ষমা ও দয়া কর এই মাহবুব ও মকবুল সিদ্দিকি আকবর এর উসিলায় ।তার থেকে প্রবাহিত হয়েছে তরিকত জগত এর বিখ্যাত শাখা নক্সেবন্দীয়া মুজাদ্দেদিয়া।


ওফাত মুবারক:
হুযুর নবীয়ে পাকের ওফাত মুবারকের পর মাত্র আরাই বছর তিনি বেঁচে ছিলেন দুনিয়াতে।হুযুর সায়িদিল আউয়ালিনা ওয়াল আখেরি আহমদে মুজতবা মুহাম্মদে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর বিরহে অসুস্থ হয়ে পড়েন দিন দিন রোগ বৃদ্ধি পেতে থাকে।একদিন স্বপ্নে দেখলেন হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাশরিকে এনেছেন এবং হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম)’এর শরীর মুবারকের দুটি সাদা কাপড় এবং কিছুক্ষণ পর তা সবুজ হয়ে গেল। এত আলোকিত হয়েছিল যে,ঝক ঝক করতে ছিল ফলে সেই দিকে দৃষ্টিপাত করা যাচ্ছিল না।হযরত আবু বকর (রাঃ)হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লামের দিকে এগিয়ে এসে সালাম দিলেন।হুযুর নবীয়ে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় নূরানি হাত মুবারক হজরত আবু বকর (রাঃ) এর বুকের উপর রাখলেন ফলে মনের কষ্ট এবং অস্থিরতা থেমে গেল,প্রশান্তি চলে আসলো এরপর হুযুর নবীয়ে রাহমত এরশাদ করলেন, হে আবু বকর (রাঃ) এখনও কি আমার সাথে সাক্ষাতের সময় আসেনি?এই কথা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) চোখেরপানি ছেরে দিয়ে বলেন,আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার সাথে আমার সাক্ষাতের সৌভাগ্য কখন হবে?এরপর ঘুম থেকে উঠে সবাইকে বললেন আমার সময় শেষ এবং হযরত আলী(রাঃ) কে ডেকে আনলেন হযরত ওসমান(রাঃ)দ্বারা ওসিয়ত নামা লিখে রাখলেন,আর হযরত আলী(রাঃ) কে বলেন,যে হাত মুবারক দ্বারা আপনি প্রিয়নবীর বদন মোবারককে গোসল মোবারক দিয়েছেন সেই হাত মুবারক দ্বারা আমাকে গোসল দিবেন,এরপর আমার পুরানো কাপড় দ্বারা আমাকে কাফন দিবেন এবং আমাকে খাটিয়ার মধ্যে রেখে জানাযার নামাজের পর হুজুর হায়াতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রওজায়ে পাকের সামনে এনে এক সালাম আরজ করে অনুমতি চাইবেন,আপনার গুহার সাথী আপনার দরজায় উপস্থিত,একান্ত বাসনা আপনার কদমের নিকটে যদি একটু স্থান মেলে,তাহলে জীবন ধন্য। অপর বর্ণনায় রয়েছে তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস এবং আপন সন্তান আব্দুর রহমান তাঁকে গোগসল মোবারক,আম্মাজান আয়শা ছিলেন তাহার কন্যা, চোখের পানি ফেলে কাদতেছেন, কথামত জানাজা নামাজের পর রওজা শরীফের সামনে এনে সালাম আরজ করা হল, হুজরা শরীফের বন্ধ দরজা আপনা-আপনি খুলে গেলো এবং এই শব্দের আওয়াজ শুনা গেল- “বন্ধুকে বন্ধুর সাথে মিলায়ে দাও, কেননা বন্ধু বন্ধুর সাথে সাক্ষাতের জন্য পাগল পারা হয়ে আছে।” (সিরাতুল সালেহিন ৯৬পৃষ্ঠা)হিজরি ত্রয়োদশ সনের ২২ই জমাদিউস সানী রোজ সোমবার ৬৩ বৎসর বয়সে ওফাত মুবারক হয়।

ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসাবে হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) অবদান:
কুরআনুল কারীমকে সংরক্ষণঃ
ইয়ামামার যুদ্ধে বহু কুরআনের হাফিজগন শহীদ হয়ে যান, তখন সাহাবায়ে কিরামগন চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে, এভাবে যদি হাফেজে কুরআনগণ ক্রমান্বয়ে শহীদ হতে থাকেন । তাহলে আমরা অচিরেই কুরআনুল করিম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো, তখন আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) সর্ব প্রথম খোলাফায়ে রাশেদিনদের নিয়ে কুরআনুল কারিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলেন।নিঃসন্দেহে ইহা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এঁর মহান খেদমতে যা আজো মুসলমান স্মরণ করেন।

ভণ্ড নবী দাবীদের দমনঃ
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওফাত মুবারকের পর বহু ভণ্ড নবীর আবির্ভাব হয়েছিল। এদের মধ্যে মুসায়েলামাতুন কাজ্জাব অন্যতম। তিনি তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করেন।
যাকাত ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনঃ
যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করেন এবং সুষ্ঠভাবে যাকাত গ্রহণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
অতএব, পরিশেষে আমরা বলতে পারি, ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে হযরত আনু বকর সিদ্দিক (রাঃ) মুসলিম জাহানের খেলাফতের মসনদে সমাহিন হওয়ার পর যে সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা চিরকাল মুমিনদের হৃদয় পটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। (মাসিক সোনার মদিনা’এর ১ম সংখ্যা, সেপ্টেম্বর’২০১৩ থেকে, ডাউনলোড লিঙ্কঃ http://www.mediafire.com/view/wnrw6cyzune2fm5/Sonar%20Madina%20%28Jilqad-Jilhajj%29.pdf)
fb.com/KhwajaArifur

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>