সর্বশেষ আপডেট
Home » bn » ইমাম আবু হানিফা রহ. কে যেভাবে জাহমী-মু’তাজেলী বানালেন খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব!!!

ইমাম আবু হানিফা রহ. কে যেভাবে জাহমী-মু’তাজেলী বানালেন খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব!!!

SonarMadina Xplor1
ইমাম আবু হানিফা রহ. কে যেভাবে জাহমী-মু
তাজেলী বানালেন খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব!!!

বাংলাদেশে সালাফী মতবাদের অন্যতম প্রচারক ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব সম্প্রতি আল-ফিকহুল আকবার এর বঙ্গানুবাদ ও ব্যাখ্যা বের করেছেন। এদেশে সালাফী মতবাদ প্রচার ও প্রসারে যারা অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব তাদের শীর্ষে রয়েছেন। বিশেষভাবে সালাফীদের বাতিল আকিদা প্রচারে তিনি বহু চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকিদা বইটি ছিলো সালাফী মতবাদ প্রচারের সূচনা। এরপর তিনি আল-ফিকহুল আকবারকে আশ্রয় করে সালাফীদের সকল বাতিল মতবাদ প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। ইমাম আবু হানিফা রহ. এর সহীহ আকিদাকে বিকৃত ব্যাখ্যার মাধ্যমে সালাফীদের ভ্রান্ত আকিদা তিনি প্রচার করে চলেছেন। ইতিহাসে ইমাম আবু হানিফা রহ. এর বক্তব্য বিকৃত করার চেষ্টা অনেকেই করেছে। কিন্তু এতো ব্যাপকভাবে ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কিতাবের ব্যাখ্যার নামে তার আকিদাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন সম্ভবত এই প্রথম। যেসমস্ত আকিদার সাথে ইমাম আবু হানিফা রহ. এর দূরতম সম্পর্ক নেই, আল-ফিকহুল আকবারের ব্যাখ্যার নামে সেগুলোকেও ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আকিদা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ইমামগণের বক্তব্যকে বিকৃত করে বাতিল আকিদা প্রচার থেকে আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

তথাকথিত সালাফীদের বাতিল আকিদার সাথে ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আকিদার কোন সম্পর্ক নেই। বরং ইমাম আবু হানিফা রহ. সালাফীদের বাতিল আকিদার অনেক ক্ষেত্রে তিনি খন্ডন করেছেন। একারণে সালাফী শায়খরা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আল-ফিকহুল আকবার সম্পর্কে বিভিন্ন কিতাবে আলোচনা করেছেন। আল-ফিকহুল  আকবার সম্পর্কে সালাফীদের অবস্থান আলোচনা করা হলো,

১. সম্প্রতি সৌদি আরবের উম্মুল কুরা ইইনিভার্সিটি আক্বিদা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ বিন আহমাদ আল-হুমাইদী একটি কিতাব লিখেছেন।
কিতাবের নাম হলো, বারাআতুল আইম্মাতিল আরবায়া মিনাল মাসাইলিল মুবতাদায়া। কভার পেজ দেখুন।
asdasdg

মূল কিতাবের ডাউনলোড লিংক:

http://www.archive.org/details/zad120

এই কিতাবে তিনি ফিকহুল আকবার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এক্ষেত্রে মজার ব্যাপার হলো, এখানে তিনি এমন আটটি মাসআলা আলোচনা করেছেন, যা মেনে নিলে সালফিদের মাযহাবই টিকবে না। এখন, একটা মানতে গিয়ে যদি সালাফীদের মূল মতবাদই ভেঙ্গে পড়ে, তাহলে সালাফিয়াত আর টিকবে না। সালাফীদে আকিদা বিরোধী মাসআলা  সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন,
1062f2_382697811879637_1072800100744933962_n

অর্থাৎ বিশেষ পর্যালোচনা: এখানে আল -ফিকহুল সে সমস্ত আকিদা সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যেগুলো আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা বিরোধী। [ বারাআতুল আইম্মাতিল আরবায়া, পৃ.৪৯]

এরপর উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ এমন আটটি মাসআলা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেগুলো সালাফী আকিদার বিরোধী। সুতরাং তার মতে আল-ফিকহুল আকবারে সালাফী আকিদা বিরোধী আটটি মৌলিক আকিদা রয়েছে। তিনি লিখেছেন, আমাকে এই ছোট্র কিতাবটি বিস্মিত করেছে যে, এতটুকু বইয়ে আহলে সুন্নতের বিরোধী এতো আকিদা রয়েছে। আহলে সুন্নতের বিরোধী এসব আকিদা প্রমাণ করে আল-ফিকহুল আকবার ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কিতাব নয়।” [বারাআতুল আইম্মাতিল আরবায়া, পৃ.৫০] 115d82702165212535_5999092694531436457_n

ড. আব্দুল আজিজ এর মতে ইমাম আবু হানিফা রহ. আল-ফিকহুল আকবার কিতাবটিতে সালাফীদের মৌলিক আকিদার বিপরীত অনেক আকিদা রয়েছে। ছোট্র এই কিতাবে এতো সালাফী আকিদা বিরোধী বক্তব্য ড. আব্দুল আজিজকে বিস্মিত করেছে। তার ভাষায়, আহলে সুন্নতের আকিদা বিরোধী এই কিতাব কখনও ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কিতাব হতে পারে না। এধরনের আকিদা বিরোধী বক্তব্য কিতাবটি ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কি না , এ বিষয়ে তাকে সংশয়ে ফেলেছে।

উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটির এই অধ্যাপক সালাফী আকিদা বিরোধী যেসব বক্তব্য আল-ফিকহুল আকবারে পেয়েছেন, তার একটি তালিকা দিয়েছেন। আমরা এখানে তার কয়েকটি উল্লেখ করছি।

১. আমাদের মুখে উচ্চারিত কুরআন মাখলুক (লাফজুনা বিল কুরআনি মাখলুকুন)।

২. কুরআন আল্লাহর কালাম, এটি কাদীম (অনাদী)।

৩. আল্লাহ তায়ালা কোন উপকরণ, শব্দ ও অক্ষর ব্যতীত কথা বলেন। অক্ষরসমূহ সব মাখলুক বা সৃষ্টি।

৪. আল্লাহ তায়ালার সত্তাকে দেহ বিহীন, কোন মৌল উপাদন (জাওহার) বা আপেক্ষিক উপাদান (আরজ) বিহীন বিশ্বাস করা।

৫. আল্লাহ তায়ালাকে বান্দাগণ পরকালে তাদের চোখে দেখবে। এই দেখার কোন অবস্থা বা সাদৃশ্য থাকবে না। আল্লাহ তায়ালার জন্য কোন স্থানগত দূরত্বও থাকবে না।

৬. আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য ও দূরত্ব স্থানগত নয়। (অর্থাৎ স্থানের দিক থেকে আল্লাহ তায়ালা কারও দূরবর্তী বা নিকটবর্তী নন)।

ড. আব্দুল আজিজ স্পষ্টভাবে লিখেছেন, আল-ফিকহুল আকবার ইমাম আবু হানিফা রহ. এর কিতাব নয়। তিনি এর স্বপক্ষে দু’ধরনের প্রমাণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত: কিতাবটি ইমাম আবু হানিফা রহ. থেকে সহীহ ন সনদে প্রমাণিত নয়।  দ্বিতীয়ত: এই কিতাবে সালাফী আকিদা বিরোধী অনেক আকিদা রয়েছে। অথচ ইমাম আবু হানিফা রহ. এসব বক্তব্য সহীহ ইসলামী আকিদা। কিন্তু সালাফীদের মতের বিরোধী হ্ওয়ার কারণে ড. আব্দুল আজিজ এগুলোকে অস্বীকার করেছেন। এসব সহীহ আকিদা সালাফীদের ভ্রান্ত আকিদার বিরোধী হওয়ার কারণেই মূলত: ইমাম আবু হানিফা রহ. এর এসব বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর যখন এই কিতাব ব্যাখ্যা করেছেন, এসমস্ত সালাফী আকিদার বিরোধী আকিদা সম্পর্কে কী করেছেন? তিনি কি এগুলোর ব্যাপারে সালাফীদের সঠিক অবস্থান তুলে ধরেছেন? না কি ইমাম আবু হানিফা রহ. এর বক্তব্য বিকৃত করে সালাফী মতবাদ ঠিক রেখেছেন?

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি, সালাফীরা ইস্তেওয়া শব্দের কয়েকটি অর্থ করে থাকে। যেমন,

১. বসা।

২. স্থির হওয়া বা স্থিতি গ্রহণ করা।

৩. উচু হওয়া বা উর্ধ্বে উঠা।

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মতে ইস্তেওয়ার অর্থ হলো, মর্যাদাগতভাবে সমুন্নত হওয়া বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে স্থানগত উচু হওয়া উদ্দেশ্য নয়। কেননা আল্লাহ তায়ালা স্থান ও দিক থেকে পবিত্র।

ইমাম আবু হানিফা রহ. সালাফীদের প্রথম দু’টি অর্থকে বিভিন্ন জায়গায় অত্যন্ত শক্তভাবে খন্ডন করেছেন। তিনি ইস্তেওয়ার তৃতীয় অর্থ সম্পর্কে কোন আলোচনা করেননি। ইমাম আবু হানিফা রহ. তার “ওসীযাত” কিতাবে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা বসা ও স্থিতি গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।

ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আকিদার ব্যাখ্যা লিখতে গিয়ে খোন্দকার জাহাঙ্গীর সাহেব ইমাম আবু হানিফা রহ. কেই মুতাযিলী-জাহমি বানিয়েছেন (নাউযুবিল্লাহ।)। আল-ফিকহুল আকবারের ২৫৬ পৃষ্ঠায় আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব বলেছেন, আরশের উপর আল্লাহর স্থিতি গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে মূলত: জাহমী মু’তাজিলীগণ।

ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব আল-ফিকহুল আকবারের ২৫৬ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,

“” জাহমী-মু’তাযিলীগণ এ বিশেষণ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবী করেন, আরশের উপর অধিষ্ঠান বা স্থিতি গ্রহণ কোনভাবেই মহান আল্লাহর বিশেষণ হতে পারে না। কারণ মহান আল্লাহর জন্য  এভাবে অবস্থান পরিবর্তন বা কোন কিছুর উপর স্থিতি গ্রহণের মত মানবীয় কর্ম অশোভনীয় এব তার অতুলনীয়ত্বের সাথে সাংঘর্ষিক। “”
fdf

fhfh
প্রিয় পাঠক, জাহাঙ্গীর সাহেবের শব্দের প্রতি খেয়াল করুন। আরশের উপর স্থিতি গ্রহনের কথা যারা অস্বীকার করে, তাদেরকে তিনি জাহমী-মুতাযেলী আখ্যায়িতি করেছেন। অথচ ইমাম আবু হানিফা রহ. স্পষ্টভাষায় বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর স্থিতি গ্রহণ থেকে পবিত্র।  সুতরাং আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেবের বক্তব্য অনুযায়ী ইমাম আবু হানিফা রহ. যেহেতু আল্লাহর আরশে স্থিতি গ্রহণের আকিদা অস্বীকার করেন, একারনে তিনি জাহমী বা মুতাজিলী। নাউযুবিল্লাহ।

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব তার কিতাবের ২৫৭ পৃষ্ঠায় ইমাম আবু হানিফা রহ. এর বক্তব্য উল্লেখ করেছেন,

” আমরা স্বীকার ও বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন, আরশের প্রতি তার কোনরূপ প্রয়োাজন ব্যতিরেকে এবং আরশের উপরে স্থিরতা-উপবেশন ব্যতিরেকে”

poii

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর সাহেব ইমাম আবু হানিফা রহ. দু’টি শব্দকে এক শব্দে এনেছেন। ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেছেন, আল্লাহর ইস্তেওয়া সত্য। তবে এটি আরশের উপর বসা কিংবা স্থিতি গ্রহণ ব্যতীত। ইমাম আবু হানিফা রহ. স্পষ্টভাষায় আরশের উপর স্থিতি গ্রহণের আকিদা অস্বীকার করেছেন। সুতরাং ড. জাহাঙ্গীর সাহেবের ২৫৬ পৃষ্ঠার বক্তব্য অনুযায়ী, ইমাম আবু হানিফা রহ. জাহমী মুতাজেলী হলেন। (নাউযুবিল্লা)।

বিষয়টি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা নেয়ার জাহাঙ্গীর সাহেবের কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা দেখুন। এ বইয়ের ৫৮৯ পৃষ্ঠায় তিনি ইমাম আবু হানিফা রহ. উক্ত বক্তব্যটি হুবহু উল্লেখ করেছেন কিন্তু সেখানে পৃথকভাবে  অনুবাদ করেছেন।  এখানে তিনি লিখেছেন, আমরা স্বীকার ও বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ আরশের উপর সমাসীন, আরশের প্রতি তার কোনরূপ প্রয়োজন ব্যতিরেকে এবং আরশের উপরে স্থিরতার প্রয়োজন ব্যতিরেকে” [কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা, পৃ.৫৮৯, ২৬৯ [পিডিএফ]] trt
dsggsg

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>