সর্বশেষ আপডেট
Home » Slide » ঈদে মীলাদুন্নবী (দ.) পালনের শরীয়তের বিধান

ঈদে মীলাদুন্নবী (দ.) পালনের শরীয়তের বিধান

ঈদে মীলাদুন্নবী (দঃ)পালনের শরীয়তের বিধান

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
সকল প্রশংসা,হামদ,সানা আল্লাহ সুবহানু তা’আলার প্রতি,লক্ষ কোটি দুরূদ ও সালাম দো’জাহানের বাদশাহ,উম্মতের ভরসা,প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর প্রতি এবং তাঁর আহলে বাইত,সাহাবায় কিরাম,তাবেয়,তাব-তাবেইন,মুজতাহিদ,মুহাদ্দিসীন,আউলিয়া কিরাম,গাউস,কুতুব,ইমাম সকলের প্রতি….. “
হিজরি বর্ষপঞ্জির ৩য় মাস রবিউল আউয়াল।
এই মাস মূলত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র বিলাদাতের জন্যই স্মরণীয়। বহুকাল আগে থেকে রাসুল (দ.)র প্রতি মহাব্বতের জন্যই মিলাদুন্নবী (দ.) পালন হয়ে আসছে। যদিও বর্তমানে অনেকে মিলাদুন্নবী (দ.) বিপক্ষে কথা বলতে দেখা যায়, যা পূর্বে এমনটি ছিল না। তারা কিছু খোরা যুক্তি তুলে ধরে, অপব্যাখ্যা তুলে ধরে মিলাদুন্নবীর (দ.) এর বিপক্ষে তুলে ধরে এবং সবার নিকট ফিতনা বিস্তার করে। বর্তমানে পৃথিবীর কোটি কোটি ইসলাম প্রিয় মানুষ মিলাদুন্নবী (দ.) পালন করছে এবং তার বিপক্ষে কথা বলেছে গুটি মাত্রার কিছু ফিতনাবাজ। ইন শা আল্লাহ্‌ কোরআন-হাদীস এবং বিখ্যাত আলেমদের মতামতের মাধ্যমে মিলাদুন্নবী (দ.) পালনের সপক্ষে তুলে ধরব।
প্রথমে বুঝতে হবে মিলাদ কি?
মিলাদ,মাওলেদ ও মাওলুদ এ তিনটি শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো -জন্মদিন,জন্মকাল ও জন্মস্থান। বিখ্যাত “আল মনজিদ” নামক আরবী অভিধানের ৯১৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে মিলাদ অর্থ জন্মসময় । মাওলেদ অর্থ জন্মস্থান অথবা জন্মসময়,মাওলুদ অর্থ ছোটো শিশু। একইভাবে মিসবাহুল লুগাতের ৯৬৬ পৃষ্ঠায় মিলাদের অর্থ জন্মসময় বলা হয়েছে,ফরহাঙ্গে রাব্বানীর ৬১১ ও ৬১৬ পৃষ্ঠায় মিলাদের অর্থ জন্ম,জন্মদিন,মাওলিদ অর্থ শিশু বা নবজাতক বলা আছে।আল মিসবাহুল মুনীর,গিয়াসুল লাগত,ফিরুজুল লুগাত,লুগাতে সুরাহা ইত্যাদি আরবী অভিধানে মিলাদ’এর অর্থ বলতে জন্মদিন বা জন্মসময় কে বলা হয়েছে। আর মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পবিত্র জন্মদিনকেই বলা হয়ে,যেই দিনে পৃথিবীতে তিনি আগমন করেছেন,সেই দিন হচ্ছে ১২ই রবিউল আওয়াল’এর দিন। ১২ ই রবিউল আউয়াল হচ্ছে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
মিলাদে সাধারণত কি হয়ে থাকে ?
১.পবিত্র কোরআন,তেলাওয়াত এবং তার আলোচনা
২. না’তে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পাঠ করা
৩.রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)এর জীবনে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা আলোচনা,হাদিসের আলোচনা
৪.রাসুলে করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি দুরুদ ও সালাম পাঠ করা,
৫.সুরা ফাতিহা পাঠ,৩ সুরা ইখলাস পাঠ,জিকির করা
৬. দুয়া ও মুনাজাত শেষে তাবাররুক বিতরণ করা।
৭.মজলিশে কুরআন-হাদীসের বয়ান,প্রিয়নবী (দ.)র শান আলোচনা,শরিয়াতের বিভিন্ন আহকামের ব্যাপারে সতর্ক করে জানান কেননা মিলাদ –মাহফিল এমন এক নুরানী মাহফিল যেখানে অনেক মুসুল্লির সমাঘম ঘটে, যাদের অনেকে সেই সকল ব্যাপারে উদাসিন,সাথে সাথে ইসলামের প্রচারও হচ্ছে।
উপরের কাজ গুলো কি শরিয়ত বিরোধী কাজ নাকি শরিয়ত সমর্থিত? এই কাজ গুলো করলে কি আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের উপর নারাজ হয়ে শাস্তি দিবেন নাকি খুশি হয়ে রহমত ও বরকত দিবেন?
লা-শারীক,আমাদের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা,পালনকর্তা,রিযিকদাতা আল্লাহ্‌ তা’আলার পর শ্রেষ্ঠ সত্তা হচ্ছেন তাঁর প্রিয় হাবীব রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম)। যেমন, কালেমায় আমরা তাঁকে স্মরণ করছি, আযানে তাঁকে স্মরণ করছি, প্রত্যেক সালাতে তাঁকে সালাম দিচ্ছি এবং তাঁর প্রতি দুরুদ পাঠ করছি। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,
“আমি আপনার আলোচনা কে সুউচ্চু করেছি” (সুরা আল ইনশিরাহ : ৪)
“আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি,তবে অনেকেই তা জানে না ” (সুরা সাবা :৮)
“হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী,সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি,এবং আল্লাহর আদেশ ক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করুপে এবং উজ্জল প্রদীপরূপে।” (সুরা আহযাব : ৪৬)
“যে রাসুলের আনুগত করল সেতো আল্লাহরই অনুগত করল।” (সূরা নিসাঃ৮০)
“আমি আপনাকে বিশ্ব মানবতার জন্য রাসুল হিসেবে প্রেরন করেছি আর এ বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে আমি আল্লাহ্‌রই যথেষ্ট যে ব্যাক্তি রাসুলকে অনুসরন করল সেতো আল্লাহ্‌ তাআলাকেই অনুসরন করল।” (সূরা আনফালঃ৬৪)
“নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ।” (সূরা আহযাবঃ৬) , সুবাহানল্লাহ, স্বয়ং মহান আল্লাহ্‌ তা’আলাই তাঁর গুণগান করছেন। শুধু তাই নয়, আল্লাহ্‌ তা’আলা কোন আমল করেন না, কিন্তু একটা আমল তিনি ঠিকি করেন। যেমন, মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,
“ইন্নাল্লাহু ওয়া মালা ইকাতুহু ইউ’সাল্লুনা’আলা আননাবী, ইয়া আইয়্যু হাল্লাজিনা আমানু সাল্লু আলায়হি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা- নিশ্চুয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর ফেরেশতা গনসহ নবীর প্রতি দুরুদ ও সালাম প্রেরন করেছেন। হে মুমিনগন! তোমরা তাঁর প্রতি দুরুদ ও সালাম প্রেরন কর।” (সূরা আহযাবঃ১০৭) সুবাহানাল্লাহ,আর পবিত্র মিলাদ শরীফ শুরু হয় এই আয়াতের মাধ্যমে।
12-rabi-ul-awal-wallpaper-2013 cospy

ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) কি?
ঈদ এ মীলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি আরবী বছর রবিউল আউয়াল মাসের ১২ই তারিখে বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান অত্যন্ত আদব ও সম্মানের সাথে উদযাপন করে থাকে। এই দিনে তারা প্রিয়নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই পৃথিবীতে আগমন করায় তার শুকরিয়া আদায় করে এবং আনন্দ প্রকাশ করে। আগেই বলে হয়েছে যে ১২ ই রবিউল আউয়াল হচ্ছে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), অর্থাৎ , প্রিয়নবী (দ.) এর পবিত্র জন্মের দিন বা পৃথিবীতে শুভাগমনের দিন। ‘ঈদ’ আরবী শব্দ এবং আরবী ভাষায় সেই দিনকে ঈদ বলা হয় যেদিন মানুষ আনন্দ ও খুশি উদযাপন করে। অতএব, প্রিয়নবীর (দ.)পৃথিবীতে শুভাগমনের আনন্দ প্রকাশই হচ্ছে ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম)।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এওং ঈদ আল আযহা ছারাও হাদিস শরীফে আরাফার দিন এবং শুক্রবারকেও মুসলমানদের ঈদের দিন বলা হয়েছে।যেমন,
হযরত তারিক ইবনে শিহাব (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, এক ইয়াহুদি ফারুকে আযম উমর (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) কে লক্ষ করে বলেন, “হে আমিরুল মুমিনিন! যদি (সূরা মায়েদা:৩ …দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম) আয়াত খানা যদি আমাদের উপর নাজিল হতো তাহলে ঐ দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহন করতাম” তখন সায়্যেদেনা উমর (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বললেন, “অবশ্যই আমি জানি কোন দিন এ আয়াত নাজিল হয়েছে। এ আয়াত নাজিল হয়েছে এমন জুমার দিন, যে দিন (৯ই জিলহাজ্জ) ছিল আরাফাতের দিন, (উমার (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) ইঙ্গিত করেন নিশ্চুই ঐ দিন আমাদের ঈদের দিন ছিল) (তিরমিযি ২ য় খণ্ড)
ইবনে মাজাহ শরীফে উল্লেখ আছে যে শুক্রবার মুসলমানদের ঈদের দিন।
ঈদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আরবী অভিধানের অন্যতম কিতাব “আল মুজামুল ওয়াসিত” এর ৬৩৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, “ ঈদ বলা হয় কোন দুশ্চিন্তা বা কোন রোগ অথবা কোন আকাংখা বা এ ধরনের অন্যান্য বিষয়, যা বারবার ফিরে আসে এবং এমন প্রত্যেক দিনকে ঈদের দিন বলা হয়, যে দিন কোন সম্মানিত অথবা প্রিয়তম ব্যাক্তির স্মরণে মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।”
“আল মুনজিদ”এর ৫৩৬ পৃষ্ঠায় বলা আছে যে , “ ঈদ বলতে এমন প্রত্যেক দিনকে বুঝায়, যে দিনে সম্মেলন হয় অথবা সম্মানিত মহান ব্যাক্তির স্মরণে অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোন ঘটনার স্মরণে কোন অনুষ্ঠান হয়।”
আল্লামা রাগেব ইস্পাহানী (রহ.) তাঁর ‘মুফরাদাত’ গ্রন্থের ৩৫২ নং পৃষ্ঠায় বলেন, “ঐ দিন (ঈদের দিন) হল খাওয়া-দাওয়া ও আনন্দ-উতসব করার দিন। সুতরাং ঈদ শব্দটি এমন প্রত্যেক দিনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে যে দিন কোন আনন্দ-উতসব করা হয়। এ দিকে ইশারা করেই আল্লাহ্‌ তা’আলার এ বানী, যা হযরত ঈসা (আলায়হিস সালাম) বলেছেন, “হে আল্লাহ্‌! আমাদের উপর আকাশ থেকে একটি খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাজিল করুন।তা আমাদের জন্য অর্থাৎ আমাদের প্রথম ও পরবর্তী সবার জন্য ঈদ হিসেবে গণ্য হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন।” (সূরা মায়েদাঃ১১৪) উল্লেখ্য যে পবিত্র আল কোরআনে এই একটি মাত্র আয়াতে ঈদ’এর কথা বলা হয়েছে।
“ফিরুজুল লুগাত” এর ১২৭ নং পৃষ্ঠায় বলা আছে যে, “ঈদ হল মুসলমানদের আনন্দের দিন, খুশির দিন, খুশির কোন অনুষ্ঠান ও খুবী আনন্দিত হওয়া।”
“মেসবাহুল লুগাত” ৫৮৩ পৃষ্ঠায় বলা আছে, “ ঈদ এমন প্রত্যেক দিনকে বলা হয়, যে দিন কোন সম্মানিত মহান ব্যাক্তির অথবা কোন গুরুত্বপূর্ণ বড় ঘটনা স্মরণে কোন সভা অনুষ্ঠিত হয়।”
বস্তুত আমাদের বাড়িতে কোন মেহমান আসলে আমরা খুশি না হয়ে পারি না, কোন শুভ অনুষ্ঠান হলে আমরা সানন্দে তাতে শরীক হই এবং খুশি হই। প্রকৃতপক্ষে আমাদের প্রতিটি দিন হওয়া উচিত আনন্দের মত কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা একেকটি দিন আমাদের জন্য দেইয়েছেন বলেই আমরা বেচে আছি,তার নেয়ামত লাভ করছি এবং তার জন্য শুকরিয়া জানাচ্ছি।যেমন, আমরা কোন ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারাও ঈদের মত কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের আদায় করার তৌফিক দিয়েছেন বলেই আমরা আদায় করতে পেরেছি।
এখন কথা হল, ১২ই রবিউল আউয়ালে হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর বেলাদাত দিবস এবং সাথে সাথে ঐ দিনে দুনিয়া থেকে পর্দা করেছেন তবে কেন আমরা ঐদিন খুশি উদযাপন করছি? বলে রাখা ভাল যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) হায়াতুন্নবী এবং তাঁর জানাজা সাধারন কোন মানুষের মত হয়নি। দলে দলে সবাই সালাতুস সালাম পাঠ করে (সূরা আহযাব এর ৫৬ আয়াত, “নিশ্চুয়ই আল্লাহ্‌ ও তাঁর ফেরেশতা গনসহ নবীর প্রতি দুরুদ ও সালাম প্রেরন করেছেন। হে মুমিনগন! তোমরা তাঁর প্রতি দুরুদ ও সালাম প্রেরন কর”) তাঁর এই অনন্য জানাজা হয়েছিল।
যেমন পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, “ আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত সঅরূপ প্রেরন করেছি” (সূরা আম্বিয়াঃ১০৭)
“আর যদি স্বীয় জীবনের উপর অত্যাচার করে আপনার নিকট আগমন করত,আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রাসুলও তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতেন তবে নিশ্ছুই তারা আল্লাহ্‌ কে তাওবা কবুলকারী , অত্যন্ত করুনাময় হিসেবে পেত।” (সূরা নিসাঃ৬৪)
“নবী মুমিনদের নিকট তাদের নিজদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ।” (সূরা আহযাবঃ৬)
“আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি,তবে অনেকেই তা জানে না ” (সুরা সাবা :৮)
“হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী,সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি,এবং আল্লাহর আদেশ ক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করুপে এবং উজ্জল প্রদীপরূপে।” (সুরা আহযাব : ৪৬)
“ আর আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে তোমরা মৃত বল না,বরং তারা জীবিত কিন্তু তোমরা তা অনুধাবন কর না।” (সুরাঃ বাকারা ১৫৪)
“ যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত ধারনা কর না,তারা জীবিত তারা তাদের রব হতে জীবিকা প্রাপ্ত হয়।” (সূরা আলে ইমরানঃ ১৬৯)
এই কথা বলা নিষ্প্রয়োজন যে নবী-রাসুল (আলাহিমুস সালাম) গন শহীদ গন থেকে অনেকে বেশি সম্মানিত এবং স্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলেন রাসুলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। ইমাম বুখারি ও ইমাম বায়হাকি (রহ.) হযরত মা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহা) হতে বর্ণনা করেন, হযুর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অন্তিম রোগশয্যায় বলতেন, আমি খায়বারে বিষ মিশ্রিত গোস্ত খেয়েছিলাম, তার জন্ত্রনা সবসময় ভোগ করে চলেছি…” ( ইমাম সুয়ুতিঃ ফি হায়াতিল আম্বিয়া) উল্লেখ্য যে, তাঁর সাথে গোস্ত খওয়াকালীন সাহাবী (রা.) সেখানেই ইন্তেকাল করেছিলেন,রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অনন্য মুজেজার কারনেই। আলোকে বলতে গেল অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে, যেমন, মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে যে, মি’রাজ রজনীতে হযুর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) হযরত মুসা (আলাহিস সালাম) কে স্বীয় কবর শরীফে সালাত আদায়রত দেখছিলেন। যদিও মি’রাজ রজনীতে সকল নবী-রাসুল (আলাহিমুস সালাম) গন তাঁর ইমামতিতে বাইতুল মুকাদ্দাসে সালাত আদায় করেছিলেন। হাদীসে বলাই আছে যে “নবী (আ.) গনদের মাটিতে দেহ ভক্কন করা হারাম করে দেয়া হয়েছে।” এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট দুরুদ ও সালাম প্রেরন করা হলে তিনি তাঁর জবাব দেন এমনকি তাঁর রওজায় কেহ সালাম দিলে তিনি ঐ ব্যাক্তি কে চিনেন এবং তাঁর পিতার নাম পর্যন্ত তিনি জানেন। হায়তুন্নবী (দ.) নিয়ে বললে আরও অনেক বলা যায়, শুধু এতটুকু যথেষ্ট যে, আমরা প্রত্যেক ওয়াক্তের সালাতের আযানে তাঁকে স্মরণ করছি, কালেমায় তাঁকে স্মরণ করছি (বর্তমান কাল)এমনকি প্রতিটি সালাতে তাঁকে সালাম দিচ্ছি (আত্তাহায়িতু পাঠের সময়) “আসসালামু আলায়কা আয়্যুহাননাবি” “হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম বর্ষিত হোক” অর্থাৎ রাসুলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) হায়তুন্নবী (দ.)। সেহেতু তাঁর ওফাতুন্নবী (দ.) পালনের জন্য যুক্তিকতা নেই। এখন কথা হল, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) এর দুনিয়ায় আগমনে কেনইবা খুশি উদযাপন করতে হবে? পবিত্র আল কোরআনে আল্লাহ্‌ তা’আলা এরশাদ করেন,”আপনি বলে দিন,আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর রহমত প্রাপ্তিতে তাদের (মুমিনদের)আনন্দ প্রকাশ করা উচিত,তা তাদের সমস্ত জমাকৃত ধন-দৌলত অপেক্ষা উত্তম।” (সুরা ইউনুস,৫৮)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) তাঁর তাফসীর গ্রন্থ ‘আদ্দুররুল মনসূরে’ উল্লেখ করেছেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)এ আয়াতের তাফসীরে বলেন, “এখানে আল্লাহর অনুগ্রহ দ্বারা ইলমে দ্বীন এবং রহমত দ্বারা হুযুর নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর কথা। যেমন আল্লাহ্‌ সুবহানু তা’আলা এরশাদ ফরমান,
“(হে হাবীব!) আমি আপনাকে বিশ্ব জগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।” (সুরা আম্বিয়া-১০৭)
ইমাম আলুসী (রহ.) তাঁর ‘তাফসীরে রুহুল মা’আনী’ ১০ম খণ্ড, ইমাম রাযী (রহ.) তাঁর ‘তাফসীরে কবীর’ ১৭ খণ্ড এরূপ বর্ণনা করেছেন।
আশ্রাফ আলী থানবী তার ‘মীলাদুন্নবী’ নামক গ্রন্থে সূরা ইউনুসের উক্ত ৫৮নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “ফযল ও রহমতের এখানে অর্থ হবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।“ তিনি বলেন, “ ‘ইবারাতুন্নাস’ দ্বারা যদিও কোরআন ও ইসলামকেই বুঝায় কিন্তু ‘দালালাতুন্নস’ দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) কেই বুঝানো হয়েছে। কেননা তিনি হচ্ছেন ‘রাহমাতুল্লিল আলামীন’
আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, “যদি তোমাদের উপর আল্লাহ এর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত তবে অবশ্যই তোমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হতে”। (সূরা আল-বাকারা ৮৪)
এই আয়াতের ব্যাখ্যা তাফসীর মারেফুল কোরআনের ৮৪ পৃষ্ঠায় বলে আছে যে এবং হাদীসের বর্ণনার ভিত্তিতে আযাব অবতীর্ণ না হওয়াটা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এরই বরকত।

মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) করা যাবে না তা কোরআনে বলা নাই,তামাম কুতুবে হাদীসে বলা নাই যে মিলাদ করা হারাম বা নাজায়েয। হারাম/ নাজায়েয হলে অবশই বলা হতো এবং রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) মানা করতেন। নবী/রাসুল (আ.)এর জন্ম আলোচনা কোরআনে আছে,মিলাদুল্লাহ বা আল্লাহর মিলাদ হয় না, যেমন, সূরা ইখলাসে বলা আছে, “তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি।”
মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) করা যাবে না তা বলা হয়নি বরং নবী/রাসুল (আ.) দের জন্ম আলোচনা কোরআনে বলা আছে।

এখন কোরআন,হাদীসের এবং যুগ শ্রেষ্ঠ আলেম,উলামাদের বক্তব্যদের আলোকে মিলাদুন্নবী (দ.) এর আরও কিছু আলোচনা করা যাক।

মিলাদুন্নবী (দ.) আলোচনা করা আল্লাহ্‌ তা’আলার সুন্নত। যেমন, পবিত্র আল কোরআনে সূরা আল ইমরানে আল্লাহ্‌ সুবহানু তা’আলা এরশাদ করেন,
“এবং স্মরণ করুন,যখন আল্লাহ নবীদের নিকট হতে তাঁদের এই প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত প্রদান করবো,অতঃপর তোমাদের নিকট থেকে এমন একজন রাসুল (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) আসবেন যিনি তোমাদের নিকট যে কিতাব আছে তাকে সত্যায়ন করবেন, নিশ্চুইয়ই তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। এই কথা বলে আল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন “তোমরা কি এর ওয়াদা করছ এবং এই সম্বন্ধে আমার নিকট হতে প্রতিশ্রুতির গুরুদায়িত্ব গ্রহন করলে?” তার বলল,”হা আমরা ওয়াদা করছি।” আল্লাহ বললেন “তবে তোমরা একে অপরের সাক্ষী হয়ে যাও আর আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম।সুতরাং যে কেউ এরপর ফিরে যাবে, তবে সে সব লোক ফাসিক।” (সুরা আলে ইমরান-৮১,৮২)
মিলাদুন্নবী (দ.) আলোচনা করা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাত। যেমন,
হযরত আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানুষের সর্বোত্তম জামানায় আমার জন্ম ও প্রেরন হয়েছে। আর জামানার মহাত্ত (হযরত নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর জন্ম থেকে) পর্যায়ক্রমে যুগের পর যুগ ধরে এসেছে। এমনকি যে জামানায় আমি জন্মগ্রহন করেছি,সে জামানাই সর্বোত্তম জামানা।” (বুখারী)
হযরত মোত্তালিব ইবনে আবু ওদায়াহ (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন হযরত আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে কাফেরদের থেকে যেন কিছু বিরূপ সমালোচনা ও কথাবার্তা শুনে তাঁর কাছে এসে তা বললেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরের উপর আরোহণ করে উপস্থিত সাহাবীদের জিজ্ঞাস করলেন, “আমি কে, তোমরা জানো কি?” সাহাবীগন বললেন, “আপনি আল্লাহর রাসুল। আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।” তখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “আমি হচ্ছি আব্দুল্লাহর পুত্র এবং আব্দুল মুত্তালিবের পৌত্র মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ্‌ তা’আলা সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর সৃষ্টিকুলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে আমাকে উত্তম দলে রেখেছেন। অতঃপর অনেক গোত্র সৃষ্টি করে আমাকে উত্তম গোত্রে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আল্লাহ্‌ তা’আলা অনেক পরিবার সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত করে এবং সত্তাগত ভাবেও সম্মানিত করেছেন।” (তিরমিযী) {হাসান}
হযরত ওয়াছিলাহ ইবনে আসাকা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,আল্লাহ পাক হযরত ইব্রাহীম (আলায়হিস সালাম)’এর সন্তানদের মধ্যে হযরত ইসমাঈল (আলায়হিস সালাম) কে সর্বচ্চ সম্মান দান করেছেন। আর ইসমাঈল(আ.)এর বংশের সন্তানদের মধ্যে কিনানার সন্তানদেরকে সর্বচ্চ সম্মান দিয়েছেন। আর কুরাইশের সন্তানদের মধ্যে হাশেমকে সর্বচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। (মুসলিম, তিরমিযী)
হযরত উমামা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)থেকে বর্ণিত,তিনি হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) কে জিজ্ঞাস করলেন, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার নবুওয়াত কখন থেকে শুরু? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “আমি আমার পিতা ইব্রাহীম আলায়হিস সালাম এর দুয়া, ঈসা (আলাহিস সালাম) এর সুসংবাদ এবং আমার জন্মের সময় আমার মা আমেনা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) তাঁর দেহ মুবারাক হতে যে নূর প্রবাহিত হয়েছিল,যার আলোতে শাম দেশের অট্টালিকা সমূহ আলোকোজ্জ্বল হয়েছিল।” (ইমাম বুখারী-তারিখে কবীর,মুসনাদে আহমেদ,ইবনে হিব্বান, আল বিদায়া ওয়া নিহায়া)
হযরত ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমি তখন থেকে আল্লাহর নিকট নবীকুলের শেষ নবী। যখন আদম (আলায়হিস সালাম) মাটির সাথে মিশ্রিত ছিলেন। আমি তোমাদেরকে আরও জানাচ্ছি যে, আমি হলাম হযরত ইব্রাহীম (আলায়হিস সালাম) এর দোয়ার ফসল এবং নবী ঈসা (আলায়হিস সালাম) এর সুসংবাদের বাস্তব প্রকাশ। আর আমি আমি আমার মাতার শপ্নের বাস্তব রুপ। নবীদের (আ.) মাতাগণ এইভাবেই স্বপ্ন দেখে থাকেন। হযরত নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর মাতা তাঁকে প্রসব করার সময় এমন নূর দেক্তে পান যার আলোতে সিরিয়া শহরের অট্টালিকাসমূহ তিনি পরিষ্কার দেখতে পেয়েছেন।” (ইমাম আহমদ,বাযযার,তাবারানি,বায়হাকী…মিশকাত)
হযরত ওসমান ইবনে আবিল আস (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)হতে বর্ণিত, যখন রাসুল (সাল্লল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর জন্মের সময় ঘনিয়ে আসলো ,তখন আমি আমেনা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) এর পাশে ছিলাম। আমি দেখতেছি যে,আকাশ থেকে তারকা সমূহ নীচে ঝুকে পড়ে খুব নিকটতর হতে লাগলো। এমনিভাবে আমি দেখতেছি যে, তারকা সমূহ যেন আমার উপর ঢলে পরতেসে। অতঃপর হুযুর (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর পুণ্যময় জন্ম হয়ে গেল। তখন আমেনা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) থেকে এমন নূর প্রবাহিত হল,যাতে করে পূর্ণ ঘর যথায় আমরা ছিলাম এবং আশপাশের মধ্যে নূর জগমগ করতেছিল। আর আমার এমনি লাগলো যে, সকল জিনিশের মধ্যে নূর আর নূর চমকাচ্ছে, তাই দৃষ্টি নিবদ্ধ হল। (তিবরানি,বায়হাকি,আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া,ফতহুল বারী)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রতি সোমবার রোজা রাকতেন,কেননা ঐদিন তাঁর উপর কোরআন নাজিল হয়েছিল এবং ঐদিন দিনি জন্মগ্রহন করেছিলেন। যেমন,হযরত আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)হতে বর্ণিত, হুযুর নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) কে সোমবার রোজা রাখার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তার উত্তরে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ইহা এমন একটি দিন, যে দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং যে দিন আমার উপর কোরআন নাজিল করা হয়েছে। আমি এ দুই নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ সোমবার রোজা রাখি।” (মুসলিম শরীফ ২য় খণ্ড,মিশকাত শরীফ)
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তাঁর নিজের আকিকা নিজেই করেছিলেন। কিন্তু তাঁর দাদা মুত্তালিব তাঁর আকিকা সম্পন্ন করেছিলেন,তখনকার সময়ে দায়ি প্রথা ছিল এবং দাদা মুত্তালিব ছিলেন একত্ববাদী এবং হযরত ইব্রাহীম (আলাহিস সালাম) ধর্ম অনুসারী। উল্লেখ্য যে শরিয়াত অনুসারে আকিকা জীবনে একবারই হয়। (বাইহাকী,ইমাম সুয়ুতি সহ অন্যোন্য আরও অনেক কিতাবে বর্ণিত আছে)
মিলাদুন্নবী (দ.) আলোচনা করা নবী/ রাসুল (আ.) এর সুন্নাত। যেমন, হযরত ইবরাহিম (আলাহিস সালাম) রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর তাঁর স্বীয় বংশে প্রেরনের জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট দুয়া করেছিলেন (সুরাহ বাকারাঃ১২৯),হযরত ঈসা (আ.) এর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর আগমনের সুসংবাদ (সূরা সাফঃ৬)।

মিলাদুন্নবী (দ.) আলোচনা করা সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম)’দের সুন্নাত।
যেমন,ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ তিরমিযী (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) তাঁর “সুনানে তিরমিযী” শরীফে ‘মীলাদুন্নবী(দ.) শিরোনামে একটি অধ্যায় প্রণয়ন করেছেন যেখানে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওসাল্লাম) এর জন্ম তারিখ নিয়ে আলোচনা সম্বলিত হাদীস বর্ণনা করেছেন,হাদীসটি হল-
হযরত মত্তালিব বিন আবদুল্লাহ আপন দাদা কয়েছ বিন মোখরামা হতে বর্ণনা করেছেন,তিনি বলেছেন-আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) ‘আমুল ফীল’ অর্থাৎ-বাদশাহ আব্রাহার হস্তি বাহিনীর উপর আল্লাহর গযব নাজিল হওয়ার বছর জন্মগ্রহন করেছি। হযরত ওসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)বনি ইয়ামর ইবনে লাইস’এর ভাই কুবাছ ইবনে আশইয়াম কে বললেন, “আপনি বড় না রাসুল (দ.)?” তখন তিনি বললেন, “রাসুল আমার চেয়ে অনেক বড় সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে আর আমি জন্ম সুত্রে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) থেকে আগে মাত্র।” (তিরমিযী,২য় খণ্ড পৃষ্ঠা নং-২০৩)
বুখারী শরীফে উল্লেখিত ঘটনাটি না বললেই নয়,হযরত অরওয়া ইবনে জুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বলেন,সুহাইবাহ আবু লাহাবের দাসী ছিল। আবু লাহাব (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর বেলাদাতের সুসংবাদ দেওয়ার কারনে (আনন্দিত হয়ে)সুহাইবাহ কে আযাদ করে দিয়েছিল।যখন আবু লাহাব মৃত্যুবরণ করেছিল তখন (এক বছর পর) তার ঘনিষ্ঠদের কেউ {হযরত আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)} তাকে স্বপ্নে শোচনীয় অবস্থায় দেখে তার উদ্দেশে বলেন, “তোমার অবস্থা কেমন?” আবু লাহাব উত্তরে বলল, “তোমাদের নিকট থেকে আসার পর আমি কোন প্রকার শান্তি পাইনি,কেবল যে (রাসুলুল্লাহ (দ.) জন্ম হওয়ার খুশিতে) সুহাইবাকে (তর্জনী ও মধ্যমা দু’টি আঙ্গুলের ইশারায়) আযাদ করে দিয়েছিলাম, ঐ কারনে (প্রতি সোমবার আঙ্গুল দুটির মধ্যে কিছু পানি জমে) আমি ঐ পানি চুষে থাকি ও প্রতি সোমবার আযাবকে হাল্কাবোধ করে থাকি।” (বুখারী,২য় খণ্ড)
বুখারী শরীফে উক্ত হাদীসের পৃষ্ঠায় শেষের দিকে এ হাদীসের পাদটীকায় বর্ণিত আছে,সুহাইবাহ আবু লাহাবকে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর জন্মের সুসংবাদ দেয়ার কারনে আবু লাহাব তাকে আযাদ করে দিয়েছিল। অতঃপর এ আযাদ করাটা (পরকালে) আবু লাহাবের উপকার এসেছে। এ কাজ তার উপকারে আসার অর্থ হল তার এ করম প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর বরকতে অবশিষ্ট ছিল। অন্যান্য কাজের নেয় বিনষ্ট হয়ে যায়নি।
এই হাদীসের প্রেক্ষাপটে ইবনে জাওজী বলেন, “যখন ঐ আবু লাহাব কাফির,যার তিরস্কারে কোরআনে সূরা নাজিল হয়েছে। মিলদুন্নাবী (দ.) এ আনন্দ প্রকাশের কারনে জাহান্নামে পুরস্কৃত হয়েছে। এখন উম্মতে মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর ঐ একত্ববাদী মুসলমানের কি অবস্থা? যে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর বেলাদাতে খুশি হয় এবং রাসুল (দ.) এর ভালবাসায় তার সাধ্যনুযায়ী খরচ করে (তিনি জবাবে বলেন)।

বিদআত প্রসঙ্গে কিছু বলা যাকঃ

বিদআত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে নতুন জিনিস বা নতুন কিছু উদ্ভাবন বা সংযজন । ধর্মীয় বিদআত হচ্ছে ধর্মীয় বিধি-বিধান,নিয়ম কানুনের নতুন কিছু উদ্ভাবন করা যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর জামানায় ছিল না। বিদআত সে কাজকে বলা হয়,যা বিগত কোনো অনুকরণ ছাড়া করা হয়।বিদআত তিন অর্থে ব্যাবহার হয়, ১.নতুন কাজ যা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর পরে সূচিত হয়েছে,২.সুন্নাতের বিপরীত কাজ যা সুন্নাত কে বিলপ্ত করে এবং ৩.সে সব বদ আকীদা, যা পরবর্তীকালে সৃষ্টি হয়েছে।
মোল্লা আলী কারী (রহ.) বলেন,”শরীয়াতের পরিভাষায় বিদআত হলো যা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে ছিল না এমন ধরনের কাজ ও পথের সুচনা করা।” {মেশকাত শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ মেরকাত শরীফ}
শায়েক আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেওলবী (রহ.) বিদআতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,”যে কাজ হুজুর করীম (দ.) এর ওফাতের পর আবিষ্কৃত হয়েছে তা বিদআত।” {আশিযাতুল লুমআত,১ম খন্ড,পৃষ্ঠা-৪২২}
বিদআত সম্পর্কে ইমাম শাফী (রহ.) বলেন,”নতুন আবিষ্কৃত যে কাজ কোরআন,সুন্নাহ,ইজমা ও কিয়াসের কোনটির বিরোধী নয় তাকে বিদআতে হাসানা বা উত্তম বিদআত বলে। তা করতে শরীয়তে কোনো প্রকার নিষেধ নেই। আর যে নব আবিষ্কৃত কাজ কোরআন,সুন্নাহ,ইজমা ও কিয়াসের পরিপন্থী তাকে বিদআতে দালালা বা সাইয়াহ বা মন্দ বিদআত বলে।”
ইমাম নববী (রহ.) বলেন,”বিদআত মূলত দুই ধরনের,বিদআতে হাসানা এবং বিদআতে সাইয়াহ।কোরআন,সুন্নাহের বিরোধী হলে বিদআতে সাইয়াহ এবং কোরআন,সুন্নাহের বিরোধী না হলে তবে তা বিদআতে হাসানা,যেমন উসুলে হাদীস,উসুলে ফিকাহ,উসুলে তাফসীর ইত্যাদি।” {তাহ্জীবে আসমা ওয়াল লুঘাত}
হাফিজ ইবন রজব বলেন,” বিদআত বলতে সেই জিনিস কে বুঝায়,কোরআন,সুন্নাহ মোতাবেক যার কোনো ভিত্তি নেই,তবে কোরআন,সুন্নাহ অনুসারে নতুন কোনো আমল কে শরীয়াতে বিদআত হয় না শুধু শাব্দিক বা ভাষাগত ভাবে বিদআতে লগিভিয়াহ।” {জামি আল উলুম আল হুকুম পৃষ্ঠা নং.২৫২}

হাফিজ আসকালানী বলেন,”যদি নতুন কিছু ইসলাম পরিপন্থী হয় তবে তা মন্দ এবং পরিপন্থী না হয় তবে তা হাসানাহ বা মঙ্গলজনক।” {ফতুহুল বারী-তারাবী অধ্যায়}
অনুরূপ ভাবে বদরুদ্দিন আইনী (রহ.) বুখারী শরীফের বেক্ষা গ্রন্থ “উমদাতুল কারী” তে একই কথা বলেছেন।
ইমাম শাফেয়ী (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি)বলেছেন, বলেন,”যে আবিষ্কৃত কাজ কোরআন,সুন্নাহ ও ইজমায় উম্মতের বিরোধী উহা গোমরাহ বিদআত,আর যে আবিষ্কৃত নতুন ভালো কাজ কোরআন,সুন্নাহ এবং ইজমায় উম্মতের বিরোধী নয় উহা নিন্দনীয় নয়,বরং ভালো বিদআত।” (মিরকাত ১ম খণ্ড ২১৬ পৃষ্ঠা)
শরিয়াতের হুকুমের দিক দিয়ে বিদআত কে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে,
যেখানে বিদআতে হাসানাহ কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে,১।জায়েয,২।মুস্তাহাব,৩।ওয়াজিব এবং বিদআতে সাইয়াহ কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে,১।মাকরুহ ২।হারাম।
যেমন, মোল্লা আলী কারী (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি)বলেন,১।বিদআত হয়ত ওয়াজিব,যেমন-আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (দ.) এর বানী বুঝার জন্য ইলমে শিক্ষা করা,ফিকাহ শাস্ত্রের মুলনীতি সমুহকে সংকলন করা ইত্যাদি; ২।অথবা হারাম,যেমন-জ্জবরিয়া,কদরিয়া ইত্যাদি পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের মতবাদ,৩।অথবা মুস্তাহাব হবে,যেমন-মুসাফিরখানা ও মাদ্রাসা সমূহ তৈরি করা এবং প্রত্যেক ভাল কাজ জা প্রথম যুগে ছিল না জেমন-জামাআতে তারাবী সালাত আদায় করা ,৪। অথবা মাকরুহ হবে,যেমন-উলামায় শাফেয়ীদের মতে মসজিদ সমূহে ঔদ্ধত্য বোধক কারুকার্য করা ও পবিত্র কোরআন শরীফের পাণ্ডুলিপিতে কারুকার্য করা কিন্তু উলামায় আহনাফদের নিকট এগুলো বৈধ। ৫।অথবা মুবাহ বা বৈধ হবে।,যেমন-ফযর ও আসরের সালাতের পর মুসাফাহা করা এবং ভাল ভাল খানা-পিনা ও আবাসস্থলের ব্যাপারে উদারতা দেখানো।” (মিরকাত)
হানাফী মাযহাবের অন্যতম ফতওয়ার কিতাব “ফতওায়ে শামী” ২য় খণ্ডের কিতাবুস সালাতের বাবুল ইমামাত অধ্যায়ে ২৯৯ নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে, “বিদআত পাঁচ প্রকার,১। হারাম বিদআতির পিছনে সালাত আদায় মাকরুহ। ২। অন্যথায় কোন কোন সময় বিদআত ওয়াজিবে পরিনত হয়।যেমন-পথভ্রষ্ট ফেরকার মতবাদ রদ করার জন্য দলীলাদি স্থাপন করা। কোরআন ও সুন্নাহ বুঝবার জন্য ইল্মে নাহু শিক্ষা করা, ৩। আবার কোন কোন সময়ে বিদআতে মুস্তাহাব হয়।যেমন-মুসাফিরখানা ও মাদ্রাসা সমূহ তৈরি করা এবং ঐ সব কল্যাণকর কাজ করা যা ইসলামের যুগে ছিল না, ৪।আবার কোন কোন সময় বিদআত মাকরুহ হয়।যেমন-মসজিদ সৌন্দর্য মণ্ডিত করা ও কারুকার্য করা, ৫। আবার কোন কোন সময় বিদআত মুবাহ বা বৈধ হয়।যেমন-ভাল খানা পিনা ও পোশাক পরিচ্ছদের ব্যাপারে উদারতা প্রদর্শন করা।” “জামে ছগীর” গ্রন্থে অনুরুপ ব্যাখ্যা বলা আছে।
হযরত মোল্লা আলী কারী তাঁর “মিরকাত”এ বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) কর্তৃক বর্ণিত, “যে কাজকে মুস্লমান ভাল মনে করেন,তা আল্লাহ তা’আলার নিকটে ভাল হিসেবে গণ্য।”
অনেকেই বলে থাকেন যে বিদআত মানে বিদআত এবং গোমরাহ, তারা মুলত ঐ একটি বর্ণনা উল্লেখ করে থাকেন যে “নব আবিষ্কৃত কোন কাজই বৈধ নয়,সকল বিদআতই নিকৃষ্ট বা খারাপ কাজ এবং তার পরিনতি জাহান্নাম।” আলোচ্য হাদীসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিস মোল্লা আলী কারী (রহ.) তাঁর “মিরকাত” এ বলেন, “রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর বানী “সমস্ত বিদআতই গোমরাহ”এর অর্থ হল সমস্ত বিদআতে সাইয়াহ বা নিকৃষ্ট বিদআতই হল গোমরাহ।”
মুহাদ্দিস সম্রাট শায়েক আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেওলবী (রহ.) বলেন “সমস্ত বিদআতই গোমরাহ বা নিকৃষ্ট বলতে এ কথাটি ২য় প্রকার (বিদআতে সাইয়াহ) এর সাথে নির্দিষ্ট।”
দেওবন্দী আলেমদের উস্তাদ হাজী এমদাদুল্লাহ হক মুহাজিরে মক্কী (রহ.)তাঁর “ফায়সালায় হাফতে মাসআলা” তে বলেন “বস্তুত বিদআত হল অধর্ম কে ধর্মের অন্তর্ভুক্ত করা।”
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে নহান আল্লাহ সুবহানু তা’আলা এরশাদ করেন,
{অতঃপর আমি তাদের পশ্চাতে প্রেরন করেছি আমার রাসুলগনকে এবং তাদের অনুগামি করেছি মরিয়াম তনয় ঈসা (আলায়হিস সালাম) কে ও তাকে দিয়েছি ইঞ্জিল।আমি তাঁর অনুসারীদের…} “আর বৈরাগ্য,সেতো তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে,আমি এটা তাদের উপর ফরয করিনি,কিন্তু তারা তা আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের জন্য এটা অবলম্বন করেছে,অতঃপর তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাসী ছিল,আমি তাদেরকে তাদের প্রাপ্য পুরষ্কার দিয়েছি।” (সূরা আল-হাদীদঃ২৭)
প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন, “যে ব্যাক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম বা উৎকৃষ্ট নিয়ম বা পদ্ধতি বের করবে,তার আমলনামায় উহার সওয়াব এবং যত লোক ঐ আমল করবে প্রত্যেকের সওয়াবের সম-পরিমান সওয়াব লিখা হবে। অথচ অনুসারীদের সওয়াবও কোন অংশে কম হবে না। আর যে ব্যাক্তি ইসলামের মধ্যে কোন নিকৃষ্ট নিয়ম পদ্ধতি বের করবে, উহার গুনাহ এবং যত লোক ঐ আমল করবে প্রত্যেকের গুনাহের সম-পরিমান গুনাহ ঐ ব্যাক্তির আমলনামায় লিখা হবে।অথচ অনুসারীদের গুনাহ কোন অংশে কম হবে না।” (মুসলিম শরীফ,কিতাবুত-যাকাত অধ্যায়,তিরমিযী শরীফ ১১খণ্ড,মিশকাত শরীফ,৩৩ পৃষ্ঠা)
রাসুলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায় রমজানে তারাবী সালাত আদায় করতেন কিন্তু জামাআতের সাথে পড়ার বিধান তখনও ছিল না। মুসলিম উম্মাহর ১ম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) এর খিলাফতের পর মুসলিম উম্মাহর ২য় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু)তৎকালীন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম) দের কে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় তারাবী সালাত আদায় করা কে দেখে তিনি তখন উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বলেছিলেন যে তারাবী সালাত জামাআতবদ্ধ ভাবে আদায় করার জন্য। এরপর থেকে তারাবীর সালাত জামাআতবদ্ধ আদায় করার পদ্ধতি প্রচলিত হয়ে গেল। বুখারী শরীফে তা বর্ণিত ছিল এবং হাদীসের শেষের দিকে উল্লেখ ছিল যে,হযরত উমার ফারুক (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বললেন, “আহা! কি চমৎকার বিদআত।”
ইয়ামামার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অনেক হাফিয শহীদ হন। হযরত ফারুকে আযম (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) সিদ্দিকে আকবর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) কে কোরআন সংকলন করতে বলেছিলেন,তখন আবু বকর সিদ্দিক(রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বললেন, “হে উমর! আপনি এমন কাজ করার কথা বলছেন যা রাসুলে কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) করেননি।” উত্তরে উমর (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) বললেন, “আল্লাহর শপথ! এতে কল্যাণ রয়েছে।” এরপর থেকে আল কোরআন কাগজে লিপিবদ্ধ করা শুরু হয়। পরবর্তীতে মুসলিম উম্মাহর ৩য় খলীফা হযরত উসমান (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু) পুরো মুসলিম জাহানে শুদ্ধ ভাবে কোরআন তেলাওয়াতের অভিপ্রায় জের,যবর,পেশ সংযোজন করেন। এইরুপ আরও অনেক উত্তম বিদআত রয়েছে, যেমন- দ্বীনি শিক্ষার জন্য মাদ্রাসা স্থাপন করা, বুখারি,মুসলিম ইত্যাদি হাদীস গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করা,ঘরির সময় দেখে সালাত আদায় করা,সিয়াম পালন করা,বিমানে করে হজ্জ আদায় করতে যাওয়া,মাসিক বেতনের ভিত্তিতে মসজিদে ইমাম নিয়োগ করে তার পিছনে সালাত আদায় করা, সালাতে,সিয়ামে মুখে নিয়ত করা,মসজিদে কাতার সোজা করার জন্য টাইলস ব্যাবহার করা-সাজসজ্জা করা, জুম্মার সালাতে প্রথম আযান দেয়া, ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ বলার পূর্বে সালাতে দাঁড়ানো, ফযরের আযানের সময় ‘আসসালাতু খায়রুম মিনান নাউম’ বাক্যটি যুক্ত করা, প্রত্যেক মুসলমানদের ছয় কালেমা শিখানো, বর্তমানে প্রচলিত নিয়মে মাদ্রাসায় মুদ্রাকারে সাদকা-ফিতরা-যাকাত প্রদান, কোরবানির চামরা দান করা ইত্যাদি বহু বিদআত রয়েছে

যুগ শ্রেষ্ঠ আলেম উলামাদের বক্তব্য এবং ফতওয়া আলোচনাঃ
*আল্লামা কুস্তালানী (রহ.) তাঁর মাওয়াহিব গ্রন্থে বলেন, “প্রতিটি যুগে মুসলমানগণ নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর বেলাদাত শরীফের মাসে মাহফিলের আয়োজন করে আসছেন। উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করেন,এর রাতগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সাদকাহ খয়রাত করেন,আনন্দ প্রকাশ করতে থাকেন, পুণ্যময় কাজ বেশি পরিমানে করেন এবং নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হ ওয়াসাল্লাম) এর আলোচনার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আসেন। ফলে আল্লাহর অসংখ্য বরকত ও ব্যাপক অনুগ্রহ প্রকাশ পায়। এর বিশেষত্বর মধ্যে এটাও পরীক্ষিত জে, নিঃসন্দেহে গোটা বছরই তারা নিরাপদে থাকে এবং তাদের উদ্দেশ্য দ্রুত সফল হয়ে থাকে। (ইমাম কুস্তলানী (রহ.) দোয়া করে বলেন) অতএব, ঐ ব্যাক্তিকে আল্লাহ্‌ দয়া করুন, যে মিলদুন্নবী (দ.) মুবারাক মাসের রাত গুলোকে ঈদ হিসেবে উদযাপন করে, যাদের অন্তরে (নবী বিদ্বেষী) রোগ রয়েছে। তাঁদের ঐ রোগ যেন আরও শক্ত আকার ধারন করে এবং যন্ত্রণায় অন্তর জ্বলে পুরে যায়।” (শরহে জুরকানী আলাল মাওয়াহিবে,১ম খণ্ড)
হযরত ইবনে আবেদিন (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, “রাত্র সমুহের মধ্যে সর্বোত্তম রাত্র হলো নবীজির জগতে পদার্পনের রাত্র। অতপর মর্যাদার দিক দিয়ে কদরের রাত্র। তারপর আরাফাতের রাত্র,অতপর জু’মার রাত্র।” (ফতওয়ায়ে শামী,২য় খন্ড)
দেওবন্দী আকিদার বিশিষ্ট মৌলভী আশরাফ আলী থানভী তার কিতাব “ফতওয়ায় ইমদাদিয়া”য় উল্লেখ করে, “নবী পাকের জন্ম বৃত্তান্ত বর্ণনা করার মাহফিল করা মুস্তাহাব।”
ইবনে তাইমিয়া বলেন, “যে মিলাদুন্নবী (দ.) আদব সহকারে উদযাপন করবে আল্লাহ্‌ তা’আলা কর্তৃক সে পুরস্কৃত হবে।” (ইকতিদাইস সীরাতিল মুস্তাকিম, পৃষ্ঠা -২৯৭)
জাকির নাইক যার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহন করেছেন তাঁর নাম আহমেদ দিদাত মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে পক্ষে কথা বলেছেন এবং তিনি তাঁর লেকচারে বলেন,মিলিয়ন মুসলিমদের মত তিনি নিজেও মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপনে শরীক হন।
ইবনুল জাউযী বলেন, “পবিত্র মক্কা মদীনার অধিবাসীরা এবং মিসর,ইয়ামেন,সিরিয়া ও পূর্ব-পশ্চিমের সমস্ত আরবীয় শহরগুলোতে জনসাধারন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর জন্মদিনের মজলিসে সমবেত হয়।তারা রবিউল আওয়াল মাসের চন্দ্র উদয় হলে খুশি হয়। তারা মনের খুশিতে গোসল করে, উত্তম পোশাক পরিধান করে, নানা প্রকার সাজে সজ্জিত হয়,আতর ও সুগন্ধি লাগায়,চোখে সুরমা ব্যাবহার করে। আর ঐ দিনে তারা খুব আনন্দ উপভগ করে। তারা নিজদের টাকা-পয়সা ,জিনিসপত্র, গরীব মিসকিনদের দান করে,এ কাযের ফলে তারা বিরাট পুণ্য লাভ করে এবং আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ করে। যেমন বাস্তব অভিজ্ঞতায়, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) এর মিলাদ অনুষ্ঠানের বরকতে ঐ বছর বিপুল পরিমানে খায়ের-বরকত, শান্তি-নিরাপত্তা বিরাজ করে।” (মাউলুদুননবী)
ইবনে বতুতা (রহঃ) মৃত্যু ৭৭৯ হিজরী ইবনে বতুতা (রহঃ) তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে বলেন,মক্কা শরীফ প্রতি শুক্রবার ও ঈদে মীলাদুন্নবী (দঃ)’তে বনী শায়বা গোত্র প্রধানের মাধ্যমে কাবা শরীফের দরজা খোলা হয়। কাবা শরীফের গিলাফ সুবাসিত করা হয়। মীলাদ শরীফের দিনে মক্কা শরীফে শাফী মাযহাবের প্রধান কাজী নজমুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইমাম মুহিউদ্দিন তাবারী তখনকার অভিজাত শ্রেণীসহ সকল মুসলমানকে আপ্যায়ন করে থাকেন। (রেহলাতু ইবনি বতুতা,১ম খন্ড,পৃষ্ঠা:৩০৯-৩৭৪)

বাদশাহ তুনুছ প্রসঙ্গে ইবনে বতুতা ইবনুল জাওজীর বর্ণনামতে বলেন,‘আল্লাহ! তাঁকে সাহায্য করুন। কল্পনাতীত ভাবে বাদশাহ্ এ মাসে (রবিউল আউয়াল) দান খয়রাত করতেন। তার দেশে সকল শহরের গরীব মিসকিন প্রতি বছর এ মাসে স্থায়ীভাবে দান-দক্ষিণা করতেন। সে সকল শহরের বন্দীদের উন্নত খাবার পরিবেশন করা হত। যাতে গরীবের তা সংরক্ষণ করত। মসজিদ সমূহকে সুসজ্জিত করা হত ও কর্মচারীদেরকেও বোনাস দেয়া হত। এ সকল মানুষের জন্য ঈদুল আযহায় কুরবানীর জন্য পশু বরাদ্দ দেয়া হত। তারই প্রতি শবে কদরের রাতজাগীদের জন্য এদিনে ছদকা বরাদ্দ দেয়া হত। তাঁরই সাথে মীলাদুন্নবীর (দঃ) রাতে সকল দেশের সকল স্থানে অনুষ্ঠানে সমাগত জনতার খাবারের ব্যবস্থা করা হত।
লা-মাজহাবিদের আলেম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান, বলেন “যে ব্যাক্তি রাসুল (দ.) এর মিলাদ উপলক্ষে খুশি হয় না,আল্লার কাছে শুকরিয়া করে না,তারা কোনদিন মুসলমান হতে পারে না।” (আশ শামামা তুল আনবারাহ মিন মাউলিদ আল খায়ের উল বারাহ, পৃষ্ঠা-১২)
ইমামে রাব্বানী হজরত মুজাদ্দেদী আলফে সানী (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) তাঁর “মাকতুবাত শরীফ”এর ৩য় খন্ডের ৭২পৃষ্ঠায় শরীয়াত সম্মত উপায় মিলাদুন্নবী (দ.) জায়েজ এবং মুস্তাহাব, মুস্তাহাসান বলেছেন।

হজরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেওলবী (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) “ফয়জুল হারমাইন” কিতাবে লিখেন,”ইতিপূর্বে প্রিয়নবী (দ.) ‘এর আগমনের দিন মক্কা-মদিনায় হাজির ছিলাম,বহু লোক প্রিয়নবী (দ.) এর উপর দুরুদ ও সালাম পথ করেছিলেন এবং সমস্ত অলৌকিক ঘটনাবলী আলোচনা করছিলেন,এমতাবস্থায় আমি কতগুলো নূর হটাত প্রকাশ হতে দেখছিলাম। আমি জানিনা উক্ত নূরগুলি চর্মচোখে দেখেছিলাম না অন্তর চক্ষুতে দেখেছিলাম,এর মধ্যে প্রকৃত বেপার কি ছিল আল্লাহ অবগত আছেন,তত্পর আমি উক্ত নূরগুলির বিষয় চিন্তা করে বুঝলাম যে,যে সমস্ত ফেরেশতা এই মজলিসের মধ্যে নিয়োজিত ছিল,ইহা তাহাদের নূরগুলি মিলিত হচ্ছে।

আখিরী মুহাদ্দিস ইমাম জালালুদ্দিন সুযুতি (রাহমাতুল্লাহি আলায়হি) “শরহেস সুদুর” কিতাবে লিখেছেন,”হজরত নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এর তাশরীফ ও দেখা সম্বন্ধে অবগত আছেন নিশ্চই তার বহুবার মিলাদ মাহফিলে ও কোরআন খতমকালে নবী করীম (দ.) কে দেখেছেন।”
বিশ্ববরেণ্য মুহাদ্দিস হজরত শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর বিখ্যাত কিতাব “মাছাবাতা বিস সুন্নাহ” এর ৮১ পৃষ্ঠায় এবং ইমাম আবু বকর ইবনে খতীব কুস্তালানি (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর “মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়া”র প্রথম খন্ডের ২৬ ও ২৭ পৃষ্ঠায় বলেছেন ,”মিলাদুন্নবী (দ.) এর রাত্রি শবে কদরের রাত্রি হতে নিঃসন্দেহে উত্কৃষ্ট,কেননা মিলাদুন্নবী (দ.)এর রাত্রি স্বয়ং প্রিয়নবী (দ.)’র আগমনের রাত্রি। আর শবে কদর’তো তাঁকেই প্রদান করা হয়েছে।”
বাইতুল মকারম মসজিদের প্রথম খতীব সাহেব, মুফতি আমিমুল ইহাসান বারকাতি (রহ.) মিলাদ/কিয়াম করতেন এবং তাঁর সময়ে কেউ মিলাদের বিপক্ষে কেউ কথা বলতে পারে নাই।

পবিত্র মক্কা-মদীনার ইমামগণদের ফতোয়াঃ
পবিত্র মক্কা শরীফ এর হানাফী মাযহাব এর মুফতী , মাওলানা শায়খ জামাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
” মীলাদ শরীফ মাহফিল অনুষ্ঠান করা হচ্ছে সারা বছর ব্যাপী শান্তি নিরাপত্তায় থাকা এবং মকসুদ হাসীল হওয়ার মাধ্যম !”
পবিত্র মক্কা শরীফের হানাফী মাযহাবের মুফতী শায়খ আব্দুর রহমান সিরাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
“মক্কা শরীফ এর মালেকী মাযহাবের মুফতী শায়খ রহমাতুল্লাহ সাহেব উনার ফতোয়া. ” এ অধম উপরোক্ত ফতোয়ার বিষয় সম্পর্কে অবহিত হয়েছি , এ প্রশ্নের উওরে হানাফী মাযহাবের মুফতী সাহেব যে উত্তর দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ বাস্তব সত্য বিষয় !”
পবিত্র মক্কা শরীফ এর শাফেঈ মাযহাবের মুফতী সাঈদ ইবনে মুহম্মদ আবসীল রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
” রহমতের নবী মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম ও প্রকাশ অপেক্ষা বড় শ্রেষ্ঠ নিয়ামত আর কি হতে পারে !”
পবিত্র মক্কা শরীফ এর হাম্বলী মাযহাবের মুফতী শায়খ খলফ ইবনে ইব্রাহিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
” ওলামায়ে কিরাম গনের ঐক্যমতে মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠান করা জায়িয !”
মক্কা শরীফ এর হানাফী মাযহাবের মুফতী শাইখ আবদুল্লাহ ইবনে সিরাজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
” নবীজীর বিলাদত শরীফ উপলক্ষে মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠান করা হয় , তখন ক্বিয়াম শরীফ করে উনার প্রতি সম্মান প্রদরশন করা বিশিষ্ট ও নামযাদা ইমামদের থেকে উত্তরাধিকার. সূত্রে প্রপ্ত !”
পবিত্র মক্কা শরীফ এর মালেকী মাযহাবের এর মুফতী আবু বকর হাজী বসাউনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর ফতোয়া, ” মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ এর ফতোয়ার ব্যপারে হানাফী মাযহাবের বর্তমান মুফতী সাহেবের সাথে এক মত , উনার ফতোয়া সঠিক ও নির্ভুল !”
পবিত্র মক্কা শরীফের হাম্বলী মাযহাবের মুফতী শাইখ মুহম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হামীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
” মীলাদ শরীফ এর অনুষ্ঠানে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচনা কালে ক্বিয়াম শরীফ করা হচ্ছে শিষ্টাচার ও অাদবের. দাবি ! ক্বিয়াম শরীফ করা কখনোই শরীয়তের নীতিমালার পরিপন্থি নয় !”
মক্কা শরীফ এর হাম্বলী মাযহাবের মুফতী শায়খ মুহম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
” হ্যাঁ , মীলাদ শরীফ এর অনুষ্ঠানে যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম. উনার বিলাদত শরীফ এর আলোচনা কালে ক্বিয়াম শরীফ করা ওয়াজিব !”
পবিত্র মক্কা শরীফ এর মালেকী মাযহাবের মুফতী হুসাইন ইবনে ইব্রাহীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
” মীলাদ শরীফ অনুষ্ঠানে নবীজী উনার জন্ম মুবারক আলোচনার সময় ক্বিয়াম শরীফ করা অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম গন মুস্তহাসান. মনে করেন !”
পবিত্র মক্কা শরীফ এর শাফেয়ী মাযহাবের ফতোয়া বোর্ডের সভাপতি মুফতী শায়খ মুহম্মদ উমর ইবনে আবু বকর রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতোয়া,
” নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাদত শরীফ এর.আলোচনা কালে ক্বিয়াম শরীফ করা মুস্তহাসান , ঐ সময় কাজটি করা উত্তম !”
(দুররুল মুনাজ্জাম,সপ্তম অধ্যায়,দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ-২৩২ পৃষ্ঠা থেকে ২৮৬ পৃষ্ঠা,ইশবাউল কালাম,হাক্বীকতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী)
অর্থাৎ,ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম) উদযাপনে কারোর কোন দিমত থাকা উচিত নয়। তবে তা শরিয়াত সম্মত উপায়।
যেমন জশনে জুলুস (বাংলায় আনন্দ মিছিল) বের করা, দান খয়রাত করা, বেশি দুরুদ শরীফ পরা।
না’তে রাসুল নিয়ে বুখারী শরীফে উল্লেখ আছে যে, না’ত আবৃতিকারী হাসান বিন সাবেত (রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহূ) এর জন্য আলাদা মিম্বর ছিল এবং সে যতক্ষণ নাত শরীফ পাঠ করত ততক্ষন জিবরাঈল (আ.) তাকে সাহায্য করতেন।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) এই পৃথিবীতে আগমনে সবাই খুশি এবং আনন্দিত। যদিও রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) এর দুশমনদের তা ভাল লাগে না। আসলে তাদের ভাল না লাগারি কথা কারন তারা ইবলিশের অনুসারী।
আল্লামা ইবনে কাসির তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ “আল বিদায়া ওয়া নিহায়া” তে বলেন,
“ইবলীস জীবনে ৪ বার কেদেছিল,১. আল্লাহ যখন তাকে অভিশপ্ত হিসেবে ঘোষণা দিলেন,২. যখন তাকে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত করা হল,৩. নূর নবীজীর ﷺ দুনিয়াতে আগমনের সময় এবং৪. সূরা ফাতিহা নাযিল হবার সময়
(সূত্রঃ ইবনে কাসির, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ, ২য় খন্ড)
ইন শা আল্লাহ্‌ ১২ই রবিউল আওয়ালে সবাই ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম) উদযাপনে শরীক হব। হয়ত আপনার এই উদযাপন আপনার নাজাতের কারন হয়ে দাঁড়াবে।
নাকি আল্লাহ্‌র সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত পাওয়ায়ই আপনি অখুশি? আল্লাহ্‌র হুকুম কি পালন করলে কি ক্ষতি হয়ে যাবে? অবশই না এবং তাই আমাদের শোকর আদায় করা উচিত,আল্লাহ আমাদের সেই করার তওফীক দিক এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুক ,আমিন!
“সবছে আওলা ও আলা, হামারা নবী, সবছে বালা ও আলা, হামারা নবী”

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>