সর্বশেষ আপডেট
Home » bn » ডাঃ জাকির নায়েক এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

ডাঃ জাকির নায়েক এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

Dr_Zadkir_Naik copy
ডাঃ জাকির নায়েক এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

তাঁর পূর্ন নাম জাকির আবদুল করীম নায়েক। আইআরএফ ওয়েবসাইট অনুসারে [http://bit.ly/2a2Z72O], ডঃ জাকির নায়িক ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের উপর তুলনামূলক বিষয়ের একজন বক্তা। তার ওয়েবসাইটে জন্মবৃত্তান্ত সংক্রান্ত কোনো প্রকার তথ্য যেমন কোথায় করেছেন এবং কোথায় বড় হয়েছেন তা পাওয়া যায় না। এমনকি তার ওয়েবসাইটে তার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড বা বংশীয় পরিচয়, তার বাবা-মা, পেশা, যোগ্যতা প্রভৃতি তথ্যও গোপন রাখা হয়েছে। কোথা থেকে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী এবং ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেছেন তাও গোপন করা হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সহীত।

উইকিপিডিয়া থেকে [http://bit.ly/2a3XPb5] যতদূর জানা যায় তাঁর জন্ম ১৯৬৫ সনের ১৮ অক্টোবরে ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের মুম্বাই শহরে। তাঁর বংশ কোঙ্কনী । তিনি এম.বি.বি.এস করেছেন তোপিওয়ালা জাতীয় মেডিকেল কলেজ এবং নায়ার হাসপাতাল, মুম্বাই, ভারত থেকে। কিন্তু এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যেমন কোন বছরে পাশ করেছেন ইত্যাদি কোথাও পাওয়া যায় না।

শায়খ আহমদ দিদাদ (রঃ) তাকে বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিষয়ে লেকচার প্রদানের শিক্ষা দিলেও জাকির নায়িক কোথায় ইসলাম বিষয়ে পড়াশুনা করেছেন তার ওয়েবসাইটে সেই সম্পর্কিত তথ্য গোপন করা হয়েছে। এটাও অজানা যে, তাকে কে পবিত্র কুর’আন পড়া শিখিয়েছে কেননা তার আরবী উচ্চারণের মধ্যে পেশাদারিত্ব পাওয়া যায় না এবং তা সম্পূর্ণভাবে মাখরাজ এবং তাযবীদ নিয়মের বিপরীত। তিনি কুর’আন এর তাফসীর শাস্ত্র, উসূলে হাদীস, ফিকাহ, আরবী ভাষা এবং ইসলামি দাওয়ার জন্য আরও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান কোথায় লাভ করেছিলেন সেই ব্যপারেও তার ওয়েবসাইট নিরব থেকেছে। এর থেকে এটা মনে হচ্ছে যে, সে সম্পূর্ণভাবে একজন নিজেই নিজের শিক্ষক, নিজে যেভাবে বুঝেন অর্থাৎ সম্পূর্ণ নিজের মনমত নিয়মে ইসলামের যাবতীয় বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করে থাকেন। তিনি গাইরে মুকাল্লিদ বা লা-মাজহাবী (অধুনা আহ্‌লে হাদীস) সম্প্রদায়ের অনুসারী।

তিনি নিজেকে একজন বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বিষয়ের ছাত্র হিসেবে দাবী করলেও ইসলামের প্রত্যেক বিষয়ের উপর তার নিজস্ব মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। তিনি এমনকি হাদীস ও ফিকাস শাস্ত্রের চার ইমাম দেরও সমালোচনা করেছেন ইন্ডাইরেক্টলি। তিনি দাবী করেছেন তাঁদের কাছে যথেষ্ট হাদীস বা তথ্য ছিল না ফতওয়া প্রদানের জন্য, আর সেই জন্য তাদের ফতওয়ার মধ্যে ভিন্নতা পাওয়া যায়। তিনি পবিত্র কুর’আন, হাদীস, শারীয়াহ, ফিকাহ শাস্ত্রকে নিজের বুঝ দ্বারা ইমামগণকে বিচার করেছেন বলে দাবী করেন এবং নিজের বুঝকেই সব থেকে বেশী প্রাধান্য দেন। তিনি দাবী করেন আলেমদেরলে গ্রহণ করে অনুসরণ করা ইসলামের ক্ষতি করেছে [দেখুন http://bit.ly/2a8iETY]। লেখাপড়া হিসেবে তিনি কখনও কোন মাদ্রাসায় বা অভিজ্ঞ আলেম-উস্তাদের নিকট ইলমে দ্বীন শিক্ষা লাভ করেন নি। যার কারণেই দেখা যায়, জাকির নায়িকের নিজস্ব মতবাদকে সঠিক মানলে শায়খ আহমদ দীদাত (রঃ) সহ ডঃ ইসরার আহমদ মুশরিক ও বিদাতি [দেখুন http://bit.ly/2ai5fIJ]। নাউজুবিল্লাহ

সুদীর্ঘ শিক্ষা জীবনে তিনি খৃষ্টান ও হিন্দুদের সংস্পর্শে কাটানোর কারনে লেবাস-পোশাকে বিধর্মীদের বেশভূষার অনুসরণ এবং নারী-পুরুষের বেপর্দা সহাবস্থানের পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে উঠেন। সেই সাথে তিনি বিধর্মীদের ধর্মমতের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন ধর্মের সমন্বয়ে বাদশাহ আকবরের দ্বীনে ইলাহির আদলে বিশ্বজনীন ধর্মমত লালন করেন। আর তিনি গাইরে মুকাল্লিদ সম্প্রদায়ের লোক হিসেবে এ সম্প্রদায়ের মতাদর্শের প্রচার-প্রসারকে নিজের মেনুফেষ্ট নির্বাচন করেন [আহলে হাদীস প্রচারকদের নাম দেখুন Adherents of the Ahl al-Hadith movement প্যারাতে http://bit.ly/2ahY0jP]। উল্লেখ্য যে গাইরে মুকাল্লিদ সম্প্রদায়ের লোকেরা নিজেদেরকে ‘আহলে হাদিস’ বলে পরিচয় দেন এবং হানাফী, শাফেয়ী, মালেকী, হাম্বলী কোণ মাজহাবই মানেন না বা তাকলীদ করেন না এবং সরাসরি কুরআন ও হাদিস মানেন বলে দাবী করেন। কিন্তু বাস্তবে তারা দ্বীনের অনেক বিষয়ে সাহাবায়ে কিরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, সলফে সালিহিন ও আইম্মায়ে মুজতাহিদনগণের স্বতঃসিদ্ধ মাসলাকের বিরুদ্ধাচারন করতে গিয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ননার ব্যাপারে খারেজীদের মত আক্ষরিক অর্থ
[NB:-ইসলামের ৭২টি বাতিল ফিরকাগুলোর মধ্যে খারেজী-মুতাজিলা ফিরকা পবিত্র কুর’আন-হাদীসের literal=আক্ষরিক অর্থ নেয়। এই সম্পর্কে জানতে দেখুন এই ভিডিও http://bit.ly/2a3vGAA এবং পড়ুন এই বইটি (The Divine Texts Answering Muhammad Ibn Abdul Wahhabs Movement) ডাউনলোড করুন http://bit.ly/29OWAez] নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যায় লিপ্ত হয়েছেন। আবার কোন কোন বিষয়ে মজবুত দলীল ভিত্তিক প্রচলিত আমলে বিপক্ষে জয়ীফ দলিল দ্বারা ভিন্ন আমলের উদ্ভব ঘটিয়ে দ্বীনের মধ্যে বিতর্কের অবতারণা করেছেন।

ডাক্তার জাকির নায়েক যেহেতু এ সম্প্রদায়ের লোক, তাই তিনি স্বাভাবিকভাবেই এসব মতবাদে বিশ্বাসী। কারো অজানা নয় যে, পৃথিবীতে সবাই নিজেদেরকে সঠিক এবং অপরকে ভ্রান্ত বলে দাবী করে থাকেন । সেই হিসেবে গাইরে মুকাল্লিদ বা লা-মাজহাবী (আহ্‌লে হাদীস) হিসেবে ডাক্তার জাকির নায়েকেরও সেরকম দাবী থাকা স্বাভাবিক। আর পৃথিবীতে কেউ নিজের বুঝ ও প্রাপ্ত দলীলের ভিত্তিতে কোন মত বা পথ অবলম্বন করলে (মুরতাদ হওয়া এবং ইসলামের কুৎসা রটনা ব্যতীত) এতে অন্যদের কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু অন্যদের মাসলাকি অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা করায় এবং সরলমনা সাধারণ মুসলমানদেরকে উল্টো বুঝিয়ে বিভ্রান্ত ও গোমরাহ করার অধিকার কারো নেই। অথচ তিনি তা-ই করছেন [ডাউনলোড করুন http://bit.ly/1PXsKzS]।

** ডাঃ জাকির নায়েকের উত্থানের মূলে কি?

বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারক শেখ আহমদ দীদাত (রঃ) খৃষ্টান ও ইয়াহুদীদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেল সম্পর্কে পারদর্শিতা অর্জন করে বহুদিন যাবত ইসলামের সত্যতার পক্ষে দলীল পেশ করে এবং ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের ধর্মমতের অসারতা প্রমাণ করে তাঁদের মুকাবিলা করে এসেছেন। তিনি ‘দি চয়েস’ নামক গ্রন্থে বাইবেলের বিভিন্ন উক্তি দ্বারা জোরালোভাবে প্রমাণ করেছেন যে, বাইবেলধারীদের ধর্ম ভ্রান্ত এবং ইসলাম ধর্ম সত্য। তাঁর এ পদক্ষেপ সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। শেখ আহমদ দীদাত মিনহাজুল কুর’আনের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ তাহির উল কাদরী এর পাশে বসে তার লেকচার শুনতেন [ভিডিও http://bit.ly/29V6x9l]। কিন্তু পিস টিভিতে জাকির নায়িক এখন পর্যন্ত একবারের জন্যও ডঃ তাহির উল কাদরী সাহেবকে দাওয়াত দেন নি, এমনকি জাকির নায়িকের অনেক ভক্তরা উনাকে গালাগালি পর্যন্ত করেন জাকির নায়িকের ভুল-ত্রুটিগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে ধরিয়ে দিয়ার জন্য। শেখ আহমদ দীদাত ১৯৯৪ ইং সনে বিশেষ এক দাওয়াতী সফরে মুম্বাই শহরে এলে ডাক্তার জাকির নায়েক তাঁর সাথে সাক্ষাত করেন এবং তাঁর থেকে বিধর্মীদের ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতিসমূহ বিধর্মীদের মুকাবিলা করে ইসলাম প্রচারের কৌশল আয়ত্ত করেন।

শেখ আহমদ দীদাত থেকে দীক্ষা লাভ করে তিনি তাঁর স্টাইলে বিধর্মীদের ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিতে অন্যান্য ধর্ম রদ এবং ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু করেন। আর এ কাজের সুষ্ঠু ইনতিজামের জন্য তিনি তাঁর এলাকার আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের সহযোগীতায় ইসলামী রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আই আর এফ) নামে ইসলাম প্রচার কেন্দ্র গড়ে তুলেন। অতঃপর এর মাধ্যমে তিনি ডিজিটাল প্রচার যন্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে বিভিন্ন কনফারেন্স এর আয়োজন এবং ‘পিস টিভি’ নামে চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও অন্য টিভি চ্যানেলে ‘গোফত্‌গো’ নামে লাইভ অনুষ্ঠান করেন।

তার ওয়েবসাই অনুসারে দক্ষিণ আফ্রিকার শায়খ আহমদ দিদাদ (রঃ) এর বিভিন্ন ধর্মের উপর তুলনামূলক লেকচার দেখে তিনি প্রভাবিত হন যখন তিনি মেডিকেল পড়ছিলেন। এর মানে হল ২২ বছর বয়সে (১৯৮৭ এর কাছাকাছি) সে নিজে ঘরে বসে ইসলাম শিক্ষা শুরু করে। আশ্চর্য্যজনকভাবে, মাত্র ৩ বছরের মধ্যেই (১৯৮৭-১৯৯০) মেডিকেলে ফুল-টাইম, ক্যাম্পাসে সময় কাটানো, সেমিষ্টার পরীক্ষা, ইন্টার্নশিপ ইত্যাদি দরকারী কাজে সময় দিয়ার পাশাপাশি তিনি ইসলামের সমস্ত বিষয় পড়া শেষ করেন এবং ১৯৯১ সালে আই.আর.এফ প্রতিষ্ঠা করেন ও ফুল-টাইম দাওয়ার কাজে নিয়োজিত হয়ে পড়েন।

তার এক লেকচারে তিনি দাবী করেছিলেন, ১৯৯১ সালে আই.আর.এফ প্রতিষ্ঠার আগেই দাওয়ার কাজ শুরু করেন। অর্থাৎ ডঃ জাকির নায়িক মুখস্তবিদ্যায় খুবই পারদর্শী। তিনি বুঝা বা জানার জন্য ইসলাম বিষয়ক বই পড়েন নি। তার কাছে ইসলাম বিষয়ক যা আসত তা তিনি শুধুই মুখস্ত করেছেন।

যার ব্রেইন খুব শার্প তারা সাধারণত খুবই বুদ্ধিমান হয়ে থাকেন। কিন্তু তারা প্রায়ই ডিকশনারীর মত হয়ে যান। তারা কখনও মূল বিষয়টা জানা বা বুঝার চেষ্টা করেন না, তারা মুখস্ত করেন পরীক্ষার খাতায় ভাল নম্বর পাওয়ার জন্য বা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে করতালির মাধ্যমে প্রশংসা পাওয়ার জন্য। তারা তাদের এই মুখস্তবিদ্যার উপর নির্ভর করে তর্কে অংশ গ্রহণের দক্ষতা বাড়িয়ে থাকেন। এই মুখস্তবিদ্যার মাধ্যমেই তারা উপস্থিত দর্শকের সম্মোহিত করে থাকেন এবং তর্কে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। তারা যৌক্তিক বিষয়কে অযৌক্তিকে এবং জ্ঞানের বিষয়কে মূর্খতায় পরিণত করতে পারেন যুক্তিতর্কে পারদর্শী হওয়ার মাধ্যমে ও বাগাড়ম্বর বক্তৃতার মাধ্যমে। তারা তাদের এই মুখস্তবিদ্যার মাধ্যমে অনুসারীদের এবং প্রতিপক্ষদের সন্দেহের মধ্যে ফেলে দিতে পারেন। বছরের পর বছর ধরে যখন তারা বিখ্যাত হোন এবং অসংখ্য অন্ধ সমর্থক তৈরী করেন তখন তারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়া শুরু করেন তাদের মুখস্তবিদ্যা, বাগাড়ম্বর বক্তৃতা ও দক্ষ যুক্তিতর্কের ক্ষমতার মাধ্যমে। এভাবেই তারা নতুন একটি দল তৈরী করে সেই দলের নেতা বনে যান। ইবন খুযাইমা (৯৩৩-৮৪৬), ইবন তাইমিয়া (১২৬৩-১৩২৮), মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওহাব (১৭০৩-১৭৯২) প্রমুখ সালাফিদের বিখ্যাত স্কলার ছিলেন তাদের মুখস্তবিদ্যা ও বাগাড়ম্বর বক্তৃতার জন্য। ডঃ জাকির নায়িক হলেন এরকম একজন জীবন্ত উদাহরণ।

এক পর্যায়ে ডাক্তার জাকির নায়েক বিধর্মীদের ধর্মগ্রন্থের অনর্গল উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁদের ধর্মের অসারতা প্রমাণ করতে এবং ইসলামের সত্যতা প্রকাশে লেকচার পদ্ধতি ও প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি দ্বারা চমক সৃষ্টি করেন। তাঁর সেসব লেকচার ও প্রশ্নোত্তরগুলো চ্যানেলের মাধ্যমে এবং সিডি ও বই আকারে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়। এতে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর বক্তব্য সুবিস্তৃত প্রচারণা পায় এবং তিনি এর মধ্য দিয়ে অভুতপূর্বভাবে দৃষ্টি আকর্ষন করতে সমর্থ হন। ভারত ও পাকিস্তানে তাঁর লেকচারসমূহ ঊর্দূ ভাষায় সিডি ও ‘খুতবাতে ডাক্তার জাকির নায়েক’ নামে সিডি আকারে এবং বাংলাদেশে তাঁর লেকচারের সংস্করণ সিডি ও “ডাঃ জাকির নায়েক লেকচার সমগ্রও” নামে বই পাওয়া যায়।

ডাক্তার জাকির নায়েকের এ পদ্ধতির কৌশলগত দিক হল, বিষয়ভিত্তিক উদ্ধৃতিসমূহ গদবাঁধাভাবে মুখস্ত করা। যদ্দরুন মানুষ অনবরত উদ্ধৃতি শুনে অভিভূত হয়ে যায় এবং তাঁকে এ সম্পর্কিত বড় বিদ্বান ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী ভাবতে থাকে। অথচ তাঁর কারিশমা সেই উদ্ধৃতি পর্যন্তই শেষ, এর বাইরে ইল্‌মের যে বিশাল সাগর-মহাসাগর রয়েছে, সেখানে তাঁর পদচারনা অপ্রতুল। এমনকি যে হাদীস ও আয়াত তিনি পেশ করেন, তাঁর আগের ও পরের আয়াত হাদীস তাঁর মুখস্তের আওতায় থাকে না এবং সেগুলোর অনেকটার অর্থও তিনি বুঝেন না। কারন, আরবী ভাষাজ্ঞান তাঁর নেই- এ কথা তিনি নিজে স্বীকার করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের দ্বারাও এটা প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্য এটা আলেমগণ ধরতে পারেন; সাধারণ জনগণের এটা ধরতে না পারা স্বাভাবিক। ভিডিওগুলো দেখুন
১. http://bit.ly/2ali0Ay
২. http://bit.ly/2a36ebx
৩. http://bit.ly/2aliAOy
৪. http://bit.ly/29S5pa6
৫. http://bit.ly/2a85F3B

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, হাফিজ এহসান কাদরী সাহেব ২০১২ সালে শ্রীলংকাতে ডঃ জাকির নায়িককে ওসীলা বিষয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হলে সে এর জবাব দিতে ব্যর্থ হয়। ভিডিওটি দেখুন যা পিস টিভিতে কখনই দেখাবে না http://bit.ly/2a5xpD7

** পিস টিভিতে জাকির নায়িকের পবিত্র কুর’আনের ভুল অনুবাদ

জাকির নায়িক এক মহিলার প্রশ্নের জবাবে বুঝাতে চেলেন পবিত্র কুর’আনে “হুর” বলতে স্বামী বা স্ত্রী উভয়কেই বুঝায়। আসুন সেই ভিডিওটি দেখে আসি http://bit.ly/2anIc0M। উনি অর্থের জন্য দুই জনের অনুবাদ দেন। তারা হলেন – মুহাম্মদ আসাদ এবং আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী। আসুন তাদের পরিচয় সম্পর্কে জানি

১. মুহাম্মদ আসাদ
জন্ম ১৯০০ সনে, বর্তমান পোলান্ডের লেমবার্গ শহরে, এক ইহুদী রাব্বী বা পুরোহীত পরিবারে। তাঁর স্ত্রী পোলা হামিদা আসাদকে নিয়ে প্রায় ২৬/২৭ বছর বাস করেছিলেন মরক্কোর তানজিয়ার্স শহরে। তিনি রাবেতা আলম ইসলামীর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন কুরআনুল কারীমের একখানি সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ তরজমা করার জন্য। প্রথম দশ পারার তাফসীর প্রকাশিত হলে কোন কোন আলিম, তাঁর কোন কোন ব্যাখ্যা সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করেন। প্রশ্ন জাগে মুহাম্মদ আসাদ কোথা থেকে তার এই অনুবাদটি পেয়েছিলেন???
এছাড়াও, ভিডিওতে [http://bit.ly/2anIc0M] দেখুন সে একজন পরনারীর সাথে হাত মিলায়। এটি ইসলামের কোথায় লিখা আছে???

২. আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী
সে একজন দাউদী বোহরা (শিয়াদের একটি উপগোত্র)। উইকিপিডিয়াতে লিখা আছে
Ali was born in Bombay, British India to a wealthy merchant family with a Dawoodi Bohra (sub-sect of Shia Islam) father.
লিঙ্ক
https://en.wikipedia.org/wiki/Abdullah_Yusuf_Ali

এই হল পিস টিভির জাকির নায়িকের আসল চিত্র। দু’জন বিতর্কিত ব্যক্তির উক্তি নিয়ে জাকির নায়িক নিজেকে তো বিতর্কিত করলই সাথে সাথে পবিত্র কুর’আনের একটা আয়াতের ভুল করে কবীরা গুনাহে লিপ্ত হল এবং অনেককে তার এই ভুল ব্যাখ্যার দ্বারা ব্রেইনয়াশড করল।

[কুর’আনের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়াও কবীরা গুণাহের কাজ। এর দলীলঃ-
# মনগড়া তাফসীর (কুর’আন এর ব্যাখ্যা) সম্পর্কে মিশকাত শারীফের কিতাবুল ইলম ২য় পরিচ্ছেদে আছেঃ
“যে ব্যক্তি কুর’আনের মনগড়া ব্যাখ্যায় কিছু বলে, সে যেন জাহান্নামে নিজ ঠিকানা বানিয়ে নেয়”
মিশকাত শারীফের ঐ একই জায়গায় আরও উল্লিখিত আছে
যে ব্যক্তি কুর’আনের ব্যাখ্যায় মনগড়া কিছু বলে এবং তা যদি সঠিকও হয়, তবুও সে ভুল করেছে বলে সাব্যস্ত হবে।
# যে ব্যক্তি মনগড়া কুরআনের তাফসীর করল সে জাহান্নামে আপন স্থান বানিয়ে নিল। (তিরমিযি শরিফ-২৯৫১)]

ডঃ জাকির নায়িকের কবীরা গুনাহের কারণে এবং হাজার হাজার মানুষকে ব্রেইনওয়াশড করার কারণে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে ক্ষমা চাওয়ার বিনীত অনুরোধ করা হল।

পবিত্র কুর’আনের ২০০ বছর আগেরকার যে কোনো তাফসীর গ্রন্থ অধ্যায়ন করলে এটিই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মাণ হয়ে যে, ‘হূর’ শব্দের অর্থ দ্বারা শুধুমাত্র সুন্দরী স্ত্রী/পত্নী অর্থাৎ স্ত্রী লিঙ্গকেই বুঝানো হয়েছে। এই বিষয়ে আরও জানার জন্য এই লিঙ্ক থেকে বইটি ডাউনলোড করে ১২৮-১৩৩ পৃঃ পর্যন্ত পড়ুন http://bit.ly/1PXsKzS

ভিজিট করুন
chattrasena.com
sonarmadina.com
sunnipediabd.com

ধারাবাহিকভাবে চলবে।
পরবর্তী পোষ্ট পেতে লাইক, শেয়ার ও মন্তব্য করে এক্টিভ থাকুন।

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>