সর্বশেষ আপডেট
Home » bn » হিজরি সাল প্রবর্তন

হিজরি সাল প্রবর্তন

hijri-postমানুষ তার জীবনের বিশেষ দিনগুলোকে স্মৃতি হিসেবে পালন করার জন্য বিভিন্নভাবে দিন, মাস ও সময় গণনা করে থাকে। চন্দ্র ও সূর্য উভয়টির মাধ্যমে সন-তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে।

হিজরি সাল প্রবর্তনের পূর্বে আরবরা তাদের বিভিন্ন স্মরণীয় ঘটনার ওপর নির্ভর করে দিন গণনা করতেন।

উমর (রা.) এর যুগে একটি নির্দিষ্ট তারিখ হিসাব করার দরকার হলে হযরত আলীসহ (রা.) কয়েকজন সাহাবির পরামর্শে একটি নির্দিষ্ট সন গণনার পরামর্শ করা হয়। এতে কেউ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’এর জন্ম থেকে সাল গণনা করার কথা বলেন, কেউ বা তার ওপর ওহি নাজিলের দিন থেকে সাল গণনা করার অভিমত ব্যক্ত করেন। কিন্তু উমর (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঘটনা থেকে সাল গণনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, এতে সব সাহাবি ঐক্যমত পোষণ করেন। কেননা, হিজরত সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে।

আল-উকদুদ দিরায়া নামক গ্রন্থে রয়েছে-ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনামলে উমর (রা.)-এর কাছে একটি চুক্তিপত্র আনা হয়। সেখানে শাবান মাসের কথা উল্লেখ ছিল। তখন উমর (রা.) বললেন, এটা কি গত শাবান না আগামী শাবান মাস? অতঃপর তিনি তারিখ গণনার নির্দেশ দিলেন এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদীনায় হিজরতকে কেন্দ্র করে হিজরি সন গণনার সূচনা করেন। এসময় মুহাররমকে প্রথম মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করেন ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুলাই। সেই দিনকে মুহাররম মাসের শুক্রবার হিসেবে ধরে হিজরি সাল গণনা শুরু হয়। উক্ত হিজরি হিসেবের প্রথম প্রয়োগ ঘটে উমর (রা.)-এর শাসনামলের ৩০ জমাদিউল উখরা/ ১৭ হিজরি অর্থাৎ ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১২ জুলাই থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় আজও হিজরি সন চলে আসছে। হিজরি সন গণনার পূর্বে আরবরা আরবি মাসগুলো ব্যবহার করতেন। অন্যান্য সব সনের মতো হিজরি সনেও ১২টি মাস রয়েছে। কেননা, আল্লাহর কাছেও ১২ মাসে এক বছর। যেমন, তিনি ঘোষণা করেন, নিশ্চই আকাশ মণ্ডলি ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর বিধানে আল্লাহর নিকট মাস গণনার বারোটি মাস, তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। (সূরা তাওবাহ; আয়াত-৩৬)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হিজরত করেন তখন ছিল রবিউল আউয়াল মাস। প্রশ্ন দেখা দেয়, তাহলে ওই মাসে না হয়ে মুহররম মাস প্রথম মাস হলো কীভাবে? মহাগ্রন্থ আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহর বিধান ও গণনার মাস বারোটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। কাজেই এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। (সূরা তাওবাহ; আয়াত-৩৬)

এ আয়াতের চারটি সম্মানিত মাসকে চিহ্নিত করতে গিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের সময় মিনা প্রান্তরে দাঁড়িয়ে বলেন, তিনটি মাস হলো জিলকদ, জিলহজ ও মুহররম এবং অপরটি হলো রজব। (তাফসীর ইবনে কাসির)

এ আয়াতের তাফসিরে আল্লামা ইমাম বাগাভি (রহ.) তার গ্রন্থ তাফসিরে বাগাভিতে উল্লেখ করেছেন-বারো মাস হলো- মুহাররম, সফর, রবিউল আউয়াল, রবিউস ছানি, জমাদিউল আউয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান, শাওয়াল, জুলকদ ও জুলহজ। আর হারাম বা সম্মানিত চারটি মাস হলো- মুহররম, রজব, জুলকদ ও জুলহজ। (তাফসিরে বাগাভি, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা নং-৪৪)

মুহাররম: মহররম-এর অর্থ হলো পবিত্র, সম্মানিত। যেহেতু, এটি হারাম মাসের একটি। তাই একে মুহাররম হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।

সফর: সফর শব্দের অর্থ খালি হওয়া। কেননা, হারাম মাস, মুহাররমের পরে সবাই ঘর ছেড়ে যুদ্ধে বের হতো, তাই একে সফর বা খালি নামে নামকরণ করা হয়েছে।

রবিউল আউয়াল ও রবিউস সানি: এ দুই মাস নামকরণের সময় রবি তথা বসন্তকালে এসেছে। তাই এ দুই মাসকে প্রথম বসন্ত ও দ্বিতীয় বসন্ত অর্থাৎ রবিউল আউয়াল ও রবিউস সানি নামে নামকরণ করা হয়েছে।

জমাদিউল উলা, জমাদিউল উখরা : জমদ শব্দের অর্থ হলো- বরফ জমাট বাধা। যেহেতু, এ দুই
মাসে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আবহাওয়া হওয়ার কারণে বরফ জমাট বাধে, তাই মাস দ্বয়ের নাম জমাদিউল উলা ও জমাদিউল উখরা নামে অভিহিত করা হয়েছে।

রজব : রজব শব্দের অর্থ সম্মান করা। যেহেতু এ মাসকে সম্মান করে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকা হয়, তাই এ মাসকে রজব নামে নামকরণ করা হয়েছে।

শাবান : এর অর্থ হলো বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত হওয়া। যেহেতু হারাম মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে বিরত থাকার পর আরবরা শাবান মাসে আবার তাদের আক্রমণের জন্য বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত হতো, তাই একে শাবান নামে নামকরণ করা হয়েছে।

রমজান : রমজ শব্দের অর্থ-দগ্ধ হওয়া। রমজান মাসে গরমের প্রচণ্ডতার কারণে এ মাসকে রমজান নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ মাসের নাম মহাগ্রন্থ আল কুরআনে উল্লেখ আছে।

শাওয়াল : শাওয়াল শব্দের অর্থ কমে যাওয়া। যেহেতু, সে সময়ে আরবদের উটের দুধ নানা কারণে কমে যেত। তাই এ মাসকে শাওয়াল নামে নামকরণ করা হয়েছে।
জুলকদ : কদ শব্দের অর্থ বসে থাকা। যেহেতু, সম্মানিত ও হারাম মাস হওয়ার কারণে আরবরা যুদ্ধ বিগ্রহে না গিয়ে বসে থাকতো, তাই একে জিলকদ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

জুলহজ : জুলহজ শব্দের অর্থ হজওয়ালা। যেহেতু এ মাস হজের মাস। তাই একে জুলহজ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

আল্লাহর আদেশ : হিজরি সন হলো চন্দ্র মাস। আর আল্লাহ তায়ালা চন্দ্রকে সময় নির্ধারণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এজন্য তাঁর সৃষ্টির উদ্দেশের প্রতি সম্মানার্থে হিজরি সন গণনা করা অপরিহার্য্য কর্তব্য।

মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী- লোকেরা আপনাকে নবচন্দ্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলুন, তাহলো মানুষের এবং হজের জন্য সময় নির্ধারণকারী। (সূরা- বাকারা: আয়াত-১৮৯) এ আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের হিসাব-নিকাশের সুবিধার্থে পঞ্জিকাস্বরূপ চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য, চন্দ্র মাস তথা হিজরি সনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আল্লাহর নিদর্শন : মহান আল্লাহ চন্দ্র মাস সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলেন- আমি রাত ও দিনকে করেছি দৃষ্টি নিদর্শন, রাত্রির নিদর্শনকে অপসারিত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকজ্জ্বল করেছি যাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ সন্ধান করতে সক্ষম হও এবং রাতে তোমরা বর্ষ-সংখ্যাও হিসাব করতে পার এবং আমি সবকিছু বিশদভাবে বর্ণনা করছি। এ আয়াত থেকে উপলব্ধি করা যায় যে আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ স্বরূপ তাঁর বান্দাদের সাল গণনা ও অন্যান্য হিসাব-নিকাশের জন্য দিন-রাতকে সৃষ্টি করেছেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্মৃতিচারণ : হিজরি সাল গণনা করা হয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ফলে হিজরি সন ব্যবহার ও গণনার ফলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবু বকর (রা.) সেই হিজরতের ঘটনা মুসলিম হৃদয়ে বার বার দোলা দেয়।

ইবাদত-বন্দেগি আদায় : ইসলামের অধিকাংশ ইবাদত-বন্দেগি যেমন: রোজা, হজ, কুরবানি, শবে-কদর, শবে বরাত, আশুরা ইত্যাদি ইবাদত হিজরি সনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত। ফলে হিজরি সনের ব্যবহারের মাধ্যমে সঠিক সময়ে ইবাদত বন্দেগি পালন করে; মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন লাভ করা সম্ভব হয়। এজন্য তাফসিরে মাআরেফুল কুরআনে, হিজরি সন তথা চন্দ্র মাস গণকাকে ফরজে-কেফায়া হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যদি উম্মতের একজনও এর ব্যবহার না করে তাহলে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ গোনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

খোলাফায়ে রাশেদার অনুকরণ: হিজরি সন হলো উমর (রা.)-এর শাসন আমলে প্রতিষ্ঠিত একটি সুন্নাত। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার জন্য আদেশ করেছেন।

তিনি ইরশাদ করেন- তোমাদের উচিত আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তীতে খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা। (মুশকিলুল আসার লিত তহাবি, হাদিস-৯৯৮)

মুসলিম ঐতিহ্যের অনুকরণ : হিজরি সন গণনা ইসলামী সংস্কৃতির অনুসরণ। এজন্য চন্দ্র মাস হিসেবে হিজরি সন গণনা করা মুসলমানদের জন্য কর্তব্য।

হিজরি সন ইসলামী ঐতিহ্যের বাস্তব নমুনা। যা  নিজ ঐতিহ্যকে অনুসরণ, অনুকরণ করতে শেখায়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে চন্দ্র মাস গণনা তথা হিজরি সন গণনা করা আল্লাহর বিধান ও মুসলিম ঐতিহ্য অনুসরণ।

আরবি সপ্তাহের সাতদিনের নাম, উচ্চারণ ও বাংলা অর্থ: রোববার-  ইয়াওমুল আহাদি ১ম দিন
সোমবার -ইয়াওমুল ইছনা-নি ২য় দিন
মঙ্গলবার-  ইয়াওমুল ছুলাছা-ই  ৩য় দিন
বুধবার- ইয়াওমুল আরবাআ-ই   ৪র্থ দিন
বৃহস্পতিবার-   ইয়াওমুল খামিসি ৫ম দিন
শুক্রবার-  ইয়াওমুল জুমআতি- ৬ষ্ঠ দিন
শনিবার-   ইয়াওমুল সাবতি বিশ্রামের দিন

১. আল্লাহ তায়ালা ৬ দিনে তাঁর সৃষ্টির কাজ সম্পন্ন করেন।

কুরআন মাজিদের ৭টি সূরার ৭টি আয়াতে বিস্তারিত আছে- (১) ৭-সূরা আরাফ: আয়াত-৫৪, (২) ১০-সূরা ইউনুস: আয়াত-৩, (৩) ১১-সূরা হূদ: আয়াত-৭, (৪) ২৫-সূরা ফুরকান: আয়াত-৫৯, (৫) ৩২ সূরা সিজদাহ: আয়াত-৪, (৬) ৫০-সূরা ক্বাফ : আয়াত-৩৮, (৭) ৫৭-সূরা হাদীস : আয়াত-৪।

এ হিসেবে ১ম দিন রোববার শেষ দিন জুমাবার এবং বিশ্রামের দিন শনিবার। এ সম্পর্কে কুরআন মাজিদের অন্তত ৬টি সূরায় উল্লেখ আছে- (১) ৭ সূরা আরাফ: আয়াত-১৬৩, (২) ২-সূরা বাকারা : আয়াত-৬৫, (৩) ৪-সূরা আন নিসা : আয়াত-৪৭, ১৫৪, (৪) ১৬ সূরা নাহল : আয়াত-১২৪ (৫) ২৫-সূরা ফুরকান : আয়াত-৪৭, (৬) ৭৮-সূরা নাবা : আয়াত-৯।

ইমাম জুহরি (রহ) বলেন, ওই দিন থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশে ইসলামী তারিখ গণনার সূচনা হয়। কাজেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনা মুনাওয়ারায় আগমন করেন, তখন রবিউল আউয়াল মাস থেকে তারিখ লিখার নির্দেশ প্রদান করেন। মুহাদ্দিস হাকিম এ বর্ণনাটি তাঁর ইকলিল নামক কিতাবে উল্লেখ করেন, কিন্তু বর্ণনাটি মুদাল বা জটিল।

প্রসিদ্ধ বর্ণনা হলো, উমর (রা.) এর খিলাফাতকালে ইসলামী তারিখ গণনার সূচনা হয়। ইমাম শাবি (রা.) এবং মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে একবার আবু মূসা আশআরি (রা.) উমর (রা.) কে লিখে পাঠান, আপনার নির্দেশসমূহ আমাদের নিকট এসে পৌঁছেছে; কিন্তু এতে তারিখ উল্লেখ নেই। উমর (রা.) ১৭ হিজরিতে তারিখ নির্ধারণের ব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর সহযোগিতা কামনা করেন।

উপস্থিতিদের মধ্যে কেউ বলেন, তারিখের সূচনা নবুওয়তের সূচনা থেকে করা হোক। কেউ বলেন, হিজরত থেকে আবার কেউ বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের দিন থেকে। উমর (রা.) বলেন, তারিখের সূচনা হিজরতের দিন থেকেই গণনা করা উচিত। এজন্য যে হিজরতের মাধ্যমেই সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সূচিত হয়। সম্মিলিতভাবে উপস্থিত সকল সাহাবায়ে কেরাম এ সিদ্ধান্ত সাদরে গ্রহণ করেন।

রবিউল আউয়াল মাসই হিজরি সালের প্রথম মাস হওয়া উচিত ছিল। কেননা এ মাসেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনা মুনাওয়ারায় আগমন করেন; কিন্তু রবিউল আওয়ালের পরিবর্তে মুহাররম মাসকে প্রথম মাস এজন্যে করা হয় যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহররম মাস থেকেই হিজরতের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। মদিনার আনসারগণ দশই জিলহজ তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং জিলহজের শেষ তারিখে তাঁরা মদিনা মুনাওয়ারায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি তাদের প্রত্যাবর্তনের কয়েক দিন পরেই হিজরতের ইচ্ছা পোষণ করেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে মদিনায় হিজরতের অনুমতি দেন। এ কারণে মুহাররমকে হিজরি সনের প্রথম মাস করা হয়েছে। এছাড়া উসমান এবং আলী (রা.) কে পরামর্শ দেন যে হিজরি সনের সূচনা মুহাররাম মাস থেকেই হওয়া উচিত। কেউ কেউ বললেন, রমজানুল মুবারক থেকেই বছরের সূচনা হওয়া উচিত। উমর (রা.) বললেন, মুহাররম মাসই উপযুক্ত মাস, কারণ হজ থেকে মানুষ মুহাররম মাসেই প্রত্যাবর্তন করে। এর ওপরই সবাই একমত হন। (বাবুত তারিখ, ফাতহুল বারি, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-২০৯, তারিখে তাবরি, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২৫২, যারকানি, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৩৫২, উমদাতুল কারি, খণ্ড-৮, পৃষ্ঠা-১২৮)

ইমাম সারাখসি (রহ.)সিয়ারুল কাবির-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেছেন, উমর (রা.) যখন তারিখ নির্দিষ্ট করার উদ্দেশে কয়েকজন বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরামকে একত্রিত করেন, তখন কেউ পরামর্শ দেন যে তারিখের সূচনা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  এর শুভ জন্ম থেকে করা উচিত; কিন্তু উমর (রা.) এ প্রস্তাব পছন্দ করলেন না। কেউ কেউ বলেন যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওফাতের তারিখ থেকে নির্দিষ্ট করা হোক। এটাও উমর (রা:) অপছন্দ করলেন এ জন্যে যে, তাঁর ওফাত তো একটি বড় দুর্ঘটনা এবং বড় ধরনের মুসিবত, এদিন থেকে তারিখ সূচনা করা আদৌ ঠিক নয়।

আলোচনা-পর্যালোচনার পর সবাই এ ব্যাপরে ঐক্যমত হন যে, হিজরতের বছর থেকেই তারিখ নির্দিষ্ট হওয়া উচিত। ফারুকে আজম (রা.) এ রায়টি পছন্দ করলেন ।
ভাল লাগলে শেয়ার করুন বাংলাদেশ আনজুমানে আশেকানে মোস্তফা দঃ​

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>