সর্বশেষ আপডেট
Home » মাস’আলা সমূহ » হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবু নগরীর মিথ্যাচারের জবাব!!!

হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবু নগরীর মিথ্যাচারের জবাব!!!

উপমহাদেশের বিখ্যাত মুহাদ্দিস শায়েখ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিস দেহলবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নামে বানোয়াট উক্তি প্রচার করল দেওবন্দী/হেফাজতিরা

দেওবন্দী/কাওমী/হেফাজতিদের গুরু জুনায়েদ বাবু নগরী তার মিলাদ বিরোধী লিখায় শায়েখ আব্দুল আযীয দেহলবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে একজন মিলাদ বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে লিখে
///হযরত শাহ্ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী হানাফী (রাহ্.)কে জিজ্ঞাসা করা হয়, রবীউল আউয়াল মাসে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করে এর সাওয়াব রাসলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূহে পৌঁছানো, তেমনি মুহাররম মাসে হযরত হুসাইন ও অন্যান্য আহলে বাইতের ঈসালে সাওয়াব উদ্দেশ্যে খানাপিনার আয়োজন করা কি জায়েয? উত্তরে তিনি বলেন, “নিজের আমলের সাওয়াব কোন বুযুর্গ ব্যক্তিকে বখশিশ করার ইখতিয়ার মানুষের আছে। তবে এর জন্য কোন মাস বা দিন-কাল নির্দিষ্ট করা বিদ্আত।“ (ফাতওয়ায়ে আযীযী-১৭৬)। তিনি ‘তুহ্ফায়ে ইসনা আশারিয়া’ নামক গ্রন্থে মীলাদ উদযাপনকে শিয়াদের মুহাররম উদযাপনের সাথে তুলনা করে বলেন, “শিয়াদের সাদৃশ্য অবলম্বন থেকে দরে থাকা আবশ্যক।” (মাহনামায়ে দারুল উলূম, জানুয়ারী সংখ্যা, ১৯৮৯ইং)///

উপরের এই কথাগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই মাত্র কিতাব খুলে দেখলাম। আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যা বর্ণনা করেছেন তা হুবুহু তুলে ধরছি

বর্তমান দেওবন্দীরা শায়েখ আব্দুল আযীয দেহলবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে মিলাদ বিরোধী হিসেবে প্রচার করে মিথ্যা উক্তি প্রচার করলে কি হবে? দেওবন্দীদের অতীতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আলেম মাওলানা হাফিজ মুহাম্মদ আব্দুল হক এলাহাবাদী মুহাজিরে মক্কী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর স্বরচিত বিখ্যাত কিতাব “আদ-দুরুল মুনাজ্জাম ফি হুকুমে আমলে মাওলাদিন নাবীয়্যিল আযম” গ্রন্থে শায়েখ আব্দুল আযীয দেহলবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সঠিক মন্তব্যই তুলে ধরেছেন এভাবে

“শায়েখ আব্দুল আযীয দেহলবী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি মুহাররাম মাসের অনুষ্ঠান মরসিয়াখানি (শোক গাথা পাঠ) সম্পর্কে জনৈক ব্যক্তির জিজ্ঞাসার উত্তরে বললেন, সারা বছরের মধ্যে এ ফকীরের (আমার) বাড়িতে দুটি মজলিস অনুষ্ঠিত হয়। একটি হচ্ছে মিলাদ শরীফের আলোচনা অনুষ্ঠান, আর অপরটি হচ্ছে শাহাদাতে হাসনাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর আলোচনা। প্রথম মজলিসে আশুরার দিন চারশত বা পাঁচশন এবং প্রায় এক হাজার লোকের সমাগম হয়। সে মজলিসে দুরূদ শরীফ পাঠ করা হয়। আমিও সে মজলিসে উপস্থিত হয়ে বসি। আর হযরত হাসনাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে হাদীসে যেসব ফযিলত বর্ণিত হয়েছে মজলিসে তাও বর্ণনা করা হয়। আর হযরত হাসান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর সাথীদের শাহাদাত লাভের ফযীলত সম্পর্কেও কিছু কিছু হাদীস বর্ণনা করা হয়। আর তাঁদের হত্যাকারীদের খারাপ পরিণত সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। এ উপলক্ষে জীন-পরী থেকে হযরত ইউম্মে সালমা ও অন্যান্য সাহাবীগণ যে শোক গাঁথা শুনেছেন তারও কিছু কিছু আবৃতি করা হয়। হযরত ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সহ অন্যান্য সাহাবীগণ যে বিস্ময়কর অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছেন তাও আলোচনা করা হয়। আর হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে, এ হৃদয় বিদারক ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন তাও আলোচনা করা হয়। এরপর কুর’আন মাজিদ খতম করা হয় এবং পাঁচটি আয়াত পাঠ করে উপস্থিত লোকদের রূহের মাগফিরাতের জন্য দু’আ করা হয়। এর মাঝে কোনো ব্যক্তি সুললিত কন্ঠে সালাম পাঠ করলে অথবা (মরসিয়াহ) শোক গাঁথা পাঠ করলে উপস্থিত লোকদের ও ফকীরদের মনটি কোমল হয়ে মহব্বতের আলোকে আবেগে নয়ন যুগল অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে। এবং কান্নায় অস্থির হয়ে যায়। এ ধরণের আরও অনেক পূণ্যময় কাজ করা হয়। অতএব এ কাজগুলো যদি বানোয়াট ও শরীয়ত বিরোধী কাজ হত তাহলে এ ফকীরের তা বৈধ হত না। এবং আদৌ তা সমর্থন করতাম না।

এখন আসুন মিলাদ শরীফের অনুষ্ঠানের আলোচনায়। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ লোকজন পূর্ব আভাস মাফিক আমার বাড়িতে এসে জমা হয় এবং দুরূদ শরীফ পাঠে তারা মশগুল হয়। আর এ ফকীরও দুরূদ শারীফ পাঠে তাদের সাথে শামিল হয়। প্রথমত হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহের কিছু কিছু বর্ণনা করা হয়। এরপর হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মবৃত্তান্ত ঘটনাবলী। তাঁর দেহ অবয়বের গঠন আকৃতি, দুগ্ধপান কালীন কিছু অবস্থা ও ঘটনাবলীসহ কিছু কিছু হাদীসও বর্ণনা করা হয়। এরপর উপস্থিত লোকদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী এবং ফাতিহার নিয়তে শিরনী ও মিষ্টান্ন বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া পুরনো দস্তর অনুযায়ী সব শেষে হযরত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চুল মুবারক সকলকে দেখানো হয়।”

[সূত্রঃ আদ-দুরুল মুনাজ্জাম ফি হুকুমে আমলে মাওলাদিন নাবীয়্যিল আযম, পৃঃ ২০৯-২১১]

এক দেওবন্দী আলেমের রচিত এই কিতাবটি নিজে ডাউনলোড করে দেখুন সেখানে কি লিখা আছে
http://www.mediafire.com/view/za2ghxgbsc6645l/Milader+Hukum-Abdul+Hoque+Muhajire+Makki.pdf

Anti Miladi copy

 

 

 

 

 

 

 

বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার (রঃ) এবং আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া (রঃ) সম্পর্কে বানোয়াট উক্তি প্রচার করল দেওবন্দী/হিফাজতিরা। লিন্ক:-
http://www.monthlymueenulislam.com/sp_details.php?id=51

দেওবন্দী/কাওমী/হেফাজতিদের গুরু জুনায়েদ বাবু নগরী তার মিলাদ বিরোধী লিখায় বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার (রঃ) এবং আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া (রঃ) কে অপব্যয়ী ও দ্বীনের প্রতি উদাসীন হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে লিখে
///“সে ছিল এক অপব্যয়ী বাদশা। সে নিজস্ব ইজতিহাদ ও অভিরুচি মতে আমল করার জন্য সমকালীন আলেমদের আদেশ দিত এবং অন্য ইমামের অনুসরণ না করার জন্য উৎসাহ যোগাত। ফলে (স্বার্থপর) আলেমদের একটি দলকে সে বাগিয়ে নিয়েছিল। সে প্রতি রবীউল আউয়াল মাসে মীলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করত। সেই প্রথম বাদশা যে এই নবতর প্রথার ভিত্তি স্থাপন করে।” (আল কাউলুল মু’তামাদ ফী আমালিল মাওলীদ, মিন্হাযুল ওয়াযিহ্-২৪৯)।
এই অপব্যয়ী বাদশা প্রজাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য ধর্মের নামে বাইতুল মালের ল ল টাকা মীলাদুন্নবীর আয়োজনে পানির মত ব্যয় করত। প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক আল্লামা যাহাবী (রাহ্.) তার সম্পর্কে লিখেন, “সে প্রতি বছর মীলাদুন্নবী উপল্েয প্রায় তিন ল দিনার ব্যয় করত।” (দুয়ালুল ইসলাম-২/১৩৬)।
আল্লামা ইব্নে কাসীর ও আল্লামা ইব্নে খাল্লিক্বান (রাহ্.) লিখেন, “কোন কোন মীলাদ মাহ্ফিলে সেই বাদশার দ¯রখানে পাঁচ হাজার ভূনা মাথা, দশ হাজার মুরগী এবং ত্রিশ হাজার হালুয়ার পাত্র থাকত। মাহ্ফিল স্থানে স্থাপন করা হত বিশটিরও অধিক চার পাঁচ তলা বিশিষ্ট গম্বুজ। তন্মধ্যে একটি গম্বুজ বাদশার জন্য নির্দিষ্ট থাকত। অবশিষ্ট গম্বুজগুলোতে অবস্থান করত বাদশার উজির-নাজির ও সভাসদবর্গ। সফর মাস থেকেই শুরু হত গম্বুজ সাজানোর কাজ। এ মাহ্ফিলে অত্যন্ত ধুমধামের সাথে নাচ-গানের আসর বসত। বাদশা নিজেও নাচে অংশগ্রহণ করত। মাহ্ফিল শেষে যোগদানকারীদের যথাযোগ্য সম্মানীও দেওয়া হত।” (তারীখে ইব্নে কাসীর-১৩/১৩৭, তারীখে ইব্নে খাল্লিক্বান-৪/১১৭-১১৯)।
সুপ্রসিদ্ধ ‘দুয়ালুল ইসলাম’ ইতিহাস গ্রন্থে দেখা যায়, উপরোক্ত অপব্যয়ী বাদশার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মীলাদ মাহ্ফিলের বৈধতা ব্যাখ্যা করে আবুল খাত্তাব উমর ইব্নে দিহ্য়া (মৃতঃ ৬৩৩ হিজরী) ‘আত-তানবীর ফী মাওলিদিস্ সিরাজিল মুনীর’ নামক একটি কিতাব রচনা করেছিল। এজন্য সে বাদশার পক্ষ থেকে এক হাজার দিনার বখশিশ লাভ করেছিল। (খন্ড-২, পৃষ্ঠা-১৩)। এই মৌলবী সম্পর্কে আল্লামা হাফেজ ইব্নে হাজার আসক্বালানী (রাহ্.) লিখেন, “সে পর্ববর্তী ইমাম ও আলেম-উলামাদের সাথে বেআদবী করত। সে ছিল অশ্লীল ভাষী, অহঙ্কারী, নির্বোধ এবং দ্বীন সম্পর্কে সংকীর্ণমনা ও অলস প্রকৃতির।” (লিসানুল মীযান-৪/২৯৬, আল্ মিন্হাযুল ওয়াযিহ্)। তিনি আরও লিখেন, “আল্লামা ইব্নুন্ নাজ্জার মন্তব্য করেন যে, আমি এই মৌলবীর মিথ্যাচার ও দুর্বলতা সম্পর্কে লোকদের একমত দেখেছি।” (লিসানুল মীযান-৪/২৯৬, আল্ মিনহাযুল ওয়াযিহ্)///

হেফাজত নেতা বাবু নগরীর উপরের মন্তব্য হল প্রকৃত তথ্যের বিকৃত রূপ। সকল ইমাম মুস্তাহিদগন তাদের সম্পর্কে কি বলেছেন তা দেখা যাক–

১. হাফিজে হাদীস ইমাম যাহাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে লিখেন-
ﻛﺎﻥ ﻣﺘﻮﺍﺿﻌﺎ ﺧﻴﺮﺍ ﺳﻨﻴﺎ ﻳﺤﺐ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ
ﻭﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻴﻦ
অর্থ: বাদশা হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি নম্র, ভদ্র ও উত্তম স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি ফক্বীহ ও মুহাদ্দিসগনকে অত্যন্ত ভালবাসতেন।”
[সূত্রঃ- সিয়ারু আলামীন নবালা, ২২ তম খন্ড, ৩৩৬ পৃষ্ঠা]

২. এ মহান বাদশার প্রশসায় উনার সমকালীন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আল্লামা ক্বাযী ইবনে খল্লিক্বান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে লিখেন-
ﻭﻛﺮﻡ ﺍﻻﺧﻼﻕ ﻛﺜﻴﺮ ﺍﻟﺘﻮﺍﺿﻊ ﺣﺴﻦ
ﺍﻟﻌﻘﻴﺪﺓ ﺳﺎﻟﻢ ﺍﻟﻄﺎﻗﺔ ﺷﺪﻳﺪ ﺍﻟﻤﻴﻞ ﺍﻟﻲ
ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻻ ﻳﻨﻔﻖ ﻋﻨﺪ ﻣﻦ
ﺍﺭﺑﺎﺏ ﺍﻟﻌﻠﻮﻡ ﺳﻮﻱ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ﻭﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻴﻦ
ﻭﻣﻦ ﻋﺪﺍﻫﻤﺎ ﻻ ﻳﻌﻄﻴﻪ ﺷﻴﺎ ﺍﻻ ﺗﻜﻠﻔﺎ
অর্থ: বাদশা হযরত মুজাফফরুদ্দিন ইবনে যাইনুদ্দীন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রসংসনীয়, চরিত্রের অধিকারী, অত্যধিক বিনয়ী ছিলেন। উনার আক্বীদা ও বিশ্বাস ছিল সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ। তিনি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তিনি আলিম উলামা, ফক্বীহ ও মুহাদ্দিসগন উনাদের পিছনে ব্যয় করা ব্যতীত সকল ক্ষেত্রে ব্যয় করার ব্যাপারে মিতব্যয়ী ছিলেন।”
[সূত্রঃ- ওয়াফইয়াতুল আ’ইয়ান, ৪র্থ খন্ড, ১১৯ পৃষ্ঠা]

এ মহান বাদশা বিশুদ্ধ আক্বীদা এবং উত্তম আমলের অধিকারী ছিলেন বলেই সে জামানার সকল আলিম উলামা, মাশায়েখ, সূফী দরবেশ সবাই সে সময় উনার আয়োজিত মীলাদ শরীফ মাহফিলে উপস্থিত হতেন। এ প্রসঙ্গে আল্লামা ক্বাযী ইবনে খল্লিক্বান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
ﻭﺍﻣﺎ ﺍﺣﺘﻔﺎﻝ ﺑﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﺎﻥ ﺍﻟﻮﺻﻒ ﻳﻘﺼﺮ ﻋﻦ
ﺍﻻﺣﺎﻃﺔ ﺑﻬﺎ ﻭﻟﻜﻦ ﻧﺬﻛﺮ ﻃﺮﻗﺎ ﻣﻨﻪ ﻭﻫﻮ
ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺒﻼﺩ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻗﺪ ﺳﻤﻌﻮﺍ ﺑﺤﺴﻦ
ﺍﻋﺘﻘﺎﺩ ﻓﻴﻪ ﻓﻜﺎﻥ ﻓﻲ ﻛﻞ ﺳﻨﺔ ﻳﺼﻞ ﺍﻟﻴﻪ
ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻼﺩ ﺍﻟﻌﺮﺑﻴﺔ ﻣﻦ ﺍﺭﺑﻞ ﻣﺜﻞ ﺑﻐﺪﺍﺩ
ﻭﺍﻟﻤﻮﺻﻞ ﻭﺍﻟﺠﺰﻳﺮﺓ ﻭ ﺳﻨﺠﺎﺭ ﻭﻧﺼﺒﻴﻦ
ﻭﺑﻼﺩﺍ ﺍﻟﻌﺠﻢ ﻭﺗﻠﻚ ﺍﻟﻨﻮﺍﺣﻲ ﺣﻠﻖ ﻛﺜﻴﺮ
ﻣﻦ ﺍﻟﻔﻘﻬﺎﺀ ﻭﺍﻟﺼﻮﻓﻴﺔ ﻭﺍﻟﻮﻋﺎﺀﻅ
ﻭﺍﻟﻘﺮﺍﺀ ﻭﺍﻟﺸﻌﺮﺍﺀ
অর্থ: বাদশা হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রহমাতুল্লাহি আলাইহি কতৃক আয়োজিত মীলাদ শরীফ এর মাহফিলের গুরুত্ব-মাহাত্ব বলে শেষ করার মত নয়। এতদসত্বেও একটি কথা না বললেই নয়। তাহলো দেশবাসী আক্বীদা ও বিশ্বাসে উনাকে উত্তম লোক বলেই জানতেন। আর তাই প্রতি বছর আরবলের নিকটবর্তী সকল দেশে যেমন-বাগদাদ, মাওয়াছিল, জাযীরাহ, সানজার, নাছীবাইন, আরব-অনারব ও আশ পাশের অসংখ্য আলীম উলামা, ফক্বীহ, ছালিহ, ওয়ায়িজ, ক্বারী ও শায়িরগন উক্ত মীলাদ শরীফ এর মাহফিলে উপস্থিত হতেন।”
[সূত্রঃ- ওয়াফইয়াতুল আ’ইয়ান, ৪র্থ খন্ড, ১১৭ পৃষ্ঠা]

আবুল খত্তাব ইবনে দাহইয়া রাহমাতুল্লাহি এর পরিচয় দিতে গিয়ে ঐতিহাসিক ইবনে খাল্লেকান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি, “তারীফে ইবনে খাল্লেকানে” লিখেছেন,
“তিনি তৎকালীন বিখ্যাত ও নেতৃস্থানীয় আলিম বিদ্বানগণের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তিনি পশ্চিমের কোন এক দেশ হতে আগমন করে শাম ও ইরাক সফর করেন এবং হিজরী ৬০৪ সালে ‘আরবল’ শহরে আগমন করে সেখানেই অবস্থান করেন। তখনকার বাদশাহ্ মালিক মুজাফফরকে মীলাদুন্নবীর প্রতি যথেষ্ট আগ্রহান্বিত ও যত্নপরায়ণ দেখে উনার এই কর্মের সমর্থনে ﺍﻟﺘﻨﻮﻳﺮ নামক একটি কিতাব প্রণয়ন করেন।”

আল্লামা ক্বাযী ইবনে খল্লিক্বান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আরও বলেন,
“ইবন দিহইয়া ছিলেন সে যুগের বিখ্যাত ওলামা ও প্রসিদ্ধ ফোজালাগণের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব। তিনি মরোক্ক থেকে আগমণ করে পর্যটনের উদ্দেশ্যে সিরিয়া ও ইরাকে প্রবেশ করেন এবং ৬০৪ হিজরী সালে (কুর্দিস্তানের) আরবিল শহরে আগমন করেন। তিনি তথাকার সম্মানীত শাসক ও বাদশাহ মুজাফফার উদ্দিনকে মিলাদুন্নাবী (সাঃ) পালন করতে দেখতে পান। তিনি বাদশাহকে উপহার দিয়ার উদ্দেশ্যে ‘আত-তানভির ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাজির’ নামক একখান গ্রন্থ মিলাদ শরীফের উপর রচণা করে উপহার প্রদান করেন। তিনি নিজে গ্রন্থখানা পাঠ করে বাদশাহকে শুনান। বাদশাহ প্রীত হয়ে তাঁকে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপহার দেন”।
[সূত্রঃ- আন নিয়ামাতুল কুবরা আলাল আলম পৃঃ ৭৬, ৯ম শতাব্দী মুজাদ্দিদ আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রঃ) এর ফতওয়া সূত্র বর্ণিত]

৩. হাফিজুল হুফফায, ইমামুল মুহাদ্দিসীন, ৯ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিখ্যাত “আল হাবীলিল ফতওয়া” নামক কিতাবে বর্ণনা করেন,
“যিনি এই প্রকার মীলাদ মাহফিলের প্রবর্তন করেন, তিনি হলেন আরবালের বাদশাহ্ মালিক মুজাফফর আবূ সাইদ বিন জয়নুদ্দীন।”
ইমাম সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উক্ত বাদশাহ্ সম্বন্ধে উনার “হুসনুল মাকাসিদ ফি আমালিল মাওয়ালিদ” কিতাবে সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিছ আল্লামা ইবনে কাসির রাহমতুল্লাহি আলাইহি উনার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে,
ﻭﻛﺎﻥ ﺷﻬﻤﺎ ﺷﺠﺎﻋﺎ ﺑﻄﻼ ﻋﺎﻟﻤﺎ ﻋﺎﺩﻻ
ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻛﺮﻡ ﻣﺜﻮﺍﻩ
অর্থ: “তিনি তীক্ষ্ম বুদ্ধি-সম্পন্ন, সাহসী, বীর্যবান, আলিম ও ন্যায় বিচারক ছিলেন। আল্লাহ্ পাক উনার প্রতি রহম করুন উনাকে সম্মানিত বাসস্থান দান করুন।”
শায়খ হাফিয আবুল খত্তাব ইবনে দাহইয়া বাদশাহর এই মীলাদ অনুষ্ঠান সম্পর্কে এক বৃহৎ কিতাব প্রণয়ন করে তার নাম দিয়েছেন, “আততানবীরু ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর।”

৪. প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনু জাওজী রাহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নাতি ‘মিরআতুজ্জামান’ নামক পুস্তকে বলেন,
“তাঁর (বাদশাহর) আয়োজিত মীলাদ মাহফিলে শীর্ষস্থানীয় সূফী ও আলিমগণ উপস্থিত হতেন।”

৫. আল্লামা ইসমাইল হাক্কী (রঃ) বলেন,
বাদশাহগণের মধ্যে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে মিলাদুন্নাবী (সাঃ) পালন করেন আরবিলের বাদশাহ (মুজাফফার উদ্দিন) [ভালমত খেয়াল করুন পাঠক বাদশাহ সর্বপ্রথম শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রীয়ভাবে, সামগ্রিকভাবে নয় যা মিলাদুন্নাবী(সাঃ) বিরোধীরা দাবী করে থাকে]। তাঁর উদ্দেশ্যে মিলাদুন্নাবীর কিতাব রচণা করেন ইবন দিহইয়া (রঃ)। তিনি কিতাবখানার নামকরণ করেন ‘আত-তানভির ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাজির’। বাদশাহ তাকে এই উদ্দেশ্যে ১০০০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা উপহার দেন। বুখারী শারীফের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যাকারী ইবন হাজস আসকলানী (রঃ) মিলাদুন্নাবীর (সাঃ) এর ভিত্তি সুন্নাহ হিসেবে প্রমাণ করেছেন এবং অনুরূপ প্রমাণ পেশ করেছেন ৯ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রঃ)। তাঁরা উভয়ই তাজুদ্দিন ফাকেহানী মালেকীর মতবাদ খন্ডন করেছেন যার মত হল মিলাদুন্নাবী (সাঃ) আমলটি নিকৃষ্ট বিদাত। আল্লামা নূরুদ্দীন আলী হলবী তাঁর ‘ইনসানুল ফি সীরাতিল আমিনীন মামুন’ গ্রন্থে এরূপ লিখেছেন।
[তাফসীর রুহুল বয়ান ১খন্ড, পৃঃ ৫৭]

৬. ইবনে কাসীর, যাকে সালাফী/ওহাবীরা তাফসীর ও ইতিহাস শাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করে থাকে, তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয় ইসলামের মুজাহিদ সুলতান গাযী সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর ভগ্নিপতি শাহ মালিক আল-মুযাফফর সম্পর্কে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। অথচ সালাফীরাই ইবনে কাসীরের কথাকে বিকৃত করে এই মর্মে মিথ্যে ছড়িয়েছে যে মুযাফফর শাহ একজন ফাসেক, নিষ্ঠুর ও বেদআতী শাসক ছিলেন (নাউজুবিল্লাহ)। প্রকৃতপক্ষে ইবনে কাসীর লিখেন:
*
ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺍﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﻛﻮﻛﺒﺮﻱ ﺍﺣﺪ
ﻟﻼﺟﻮﺍﺩ ﺍﻟﺴﺎﺩﺍﺕ ﺍﻟﻜﺒﺮﺍﺀ ﻭﺍﻟﻤﻠﻮﻙ
ﺍﻻﻣﺠﺎﺩﻟﺔ ﺍﺛﺮ ﺣﺴﻨﺔ
অর্থ: বাদশা হযরত মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন আবু সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি দানশীল ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। সাথে সাথে তিনি সম্মানিত বাদশাও ছিলেন। উনার বহু পূন্যময় কাজের আলামত এখনও বিদ্যমান রয়েছে।”
[সূত্রঃ- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩ তম, খন্ড ১৩৬ পৃষ্ঠা] *
ﻛﺎﻥ ﻳﺼﺮﻑ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻛﻞ ﺳﻨﺔ ﻋﻠﻲ
ﺛﻼﺛﺔ ﺍﻟﻒ ﺩﻳﻨﺎﺭ
অর্থ: আরবলের বাদশা হযরত মালিক মুজাফফরুদ্দীন ইবনে যাইনুদ্দীন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রতি বছর পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে তিন
লক্ষ দিনার ব্যায় করতেন।”
[সূত্রঃ- আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১৩ তম, খন্ড ১৩৭ পৃষ্ঠা] *
أحد الاجواد والسادات الكبراء والملوك الامجاد له آثار حسنة وقد عمر الجامع المظفري بسفح قاسيون وكان قدهم بسياقه الماء إليه من ماء بذيرة فمنعه المعظم من ذلك واعتل بأنه قد يمر على مقابر المسلمين بالسفوح وكان يعمل المولد الشريف في ربيع الاول ويحتفل به احتفالا هائلا وكان مع ذلك شهما شجاعا فاتكا بطلا عاقلا عالما عادلا رحمه الله وأكرم مثواه وقد صنف الشيخ أبو الخطاب ابن دحية له مجلدا في المولد النبوي سماه التنوير في مولد البشير النذير فأجازه على ذلك بألف دينار وقد طالت مدته في الملك في زمان الدولة الصلاحية وقد كان محاصر عكا وإلى هذه السنة محمودالسيرة والسريرة قال السبط حكى بعض من حضر سماط المظفر في بعض الموالد كان يمد في ذلك السماط خمسة آلاف راس مشوى وعشرة آلاف دجاجة ومائة ألف زبدية وثلاثين ألف صحن حلوى
অর্থঃ “(মুযাফফর শাহ) ছিলেন একজন উদার/সহৃদয় ও প্রতাপশালী এবং মহিমান্বিত শাসক, যাঁর সকল কাজ ছিল অতি উত্তম। তিনি কাসিইউন-এর কাছে জামেয়া আল-মুযাফফরী নির্মাণ করেন…..(প্রতি) রবিউল আউয়াল মাসে তিনি জাঁকজমকের সাথে মীলাদ শরীফ (মীলাদুন্নবী) উদযাপন করতেন। উপরন্তু, তিনি ছিলেন দয়ালু, সাহসী, জ্ঞানী, বিদ্বান ও ন্যায়পরায়ণ শাসক – রাহিমুহুল্লাহ ওয়া একরাম – শায়খ আবুল খাত্তাব (রহ:) সুলতানের জন্যে মওলিদুন্ নববী সম্পর্কে একখানি বই লিখেন এবং নাম দেন ‘আত্ তানভির ফী মওলিদ আল-বাশির আন্ নাযীর’। এ কাজের পুরস্কারস্বরূপ সুলতান তাঁকে ১০০০ দিনার দান করেন। সালাহিয়া আমল পর্যন্ত তাঁর শাসন স্থায়ী হয় এবং তিনি ’আকা’ জয় করেন। তিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র থেকে যান।
”আস্ সাবত্ এক ব্যক্তির কথা উদ্ধৃত করেন যিনি সুলতানের আয়োজিত মওলিদ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন; ওই ব্যক্তি বলেন: ‘অনুষ্ঠানে সুলতান ভালভাবে রান্নাকৃত ৫০০০ ছাগল, ১০,০০০ মোরগ, ১ লক্ষ বৌল-ভর্তি দুধ এবং ৩০,০০০ ট্রে মিষ্টির আয়োজন করতেন’।”
[’তারিখে ইবনে কাসীর’, ‘আল-বেদায়াহ ওয়ান্ নেহায়া’ ১৩তম খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা] স্ক্যান কপি
http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=16

অনুরূপ বিবরণ বিখ্যাত গ্রন্থ সীরাতে শামী, সীরাতে হালবীয়া, সীরাতে নববীয়া ও যুরকানী” ইত্যাদিতেও বিদ্যমান আছে।

## তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান বিন আফফান (রাঃ) বলেন –
مَنْ اَنْفَقَ دِرْهَمًا عَلَى قرأة مَوْلِدِ النَّبِىُ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ فَكَا نَّمَا ثَهِيد غَزُوَةِ بَدَر رَوحُنَيْنُ
অর্থাৎ- “যে ব্যক্তি মীলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করার জন্য এক দিরহাম খরচ করল- সে যেন নবীজীর সাথে বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক হলো”।
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-৮] ## প্রসিদ্ধ তাবেঈ হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন
قال حسن البصري رضي الله تعالی عنه وددت لو کان لی مثل جبل احد ذھبا فانفقته علی قراءة مولد النبي صلی الله علیه وسلم
অর্থাৎ- যদি আমার উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকত তাহলে আমি তা রাসূলে পাক (দঃ) এর ঈদ-ই-মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাহফিলে খরচ করতাম।
[আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-১১]

সুতরাং বাদশাহের মিলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুষ্ঠানের জন্য খরচ করা সওয়াবের কাজ ছিল।

মূল আরবী কিতাব দেখতে চেলে নিচের ভিডিও দেখুন
http://www.youtube.com/watch?v=gd_zCvmQaeM

৭. বর্তমান দেওবন্দীরা বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার (রঃ) এবং আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া (রঃ) সম্পর্কে মিথ্যাচার করলে কি হবে? তাদের অতীতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আলেম মাওলানা হাফিজ মুহাম্মদ আব্দুল হক এলাহাবাদী মুহাজিরে মক্কী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
“রাজ রাজাদের মধ্যে আরবলের(বর্তমান ইরাকের একটি অঞ্চল) আবু সাঈদ কাওকারী ইবন যয়নুদ্দিন সর্বপ্রথম মিলাদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তিনি মহান ও প্রসিদ্ধ দানশীল রাজা ছিলেন। হাফিজ ইমাম ইবন কাসির (রঃ) তার ‘তারিখ’ গ্রন্থে লিখেছেন, আরবলের মহান রাজা রবিউল আউয়াল মাসে মিলাদুন্নাবী অনুষ্ঠান খুব ঝাকমকের সাথে পালন করতেব। আরবলের রাজার জন্য শায়খ আবুল খাত্তাব ইবনে দাহইয়া মিলাদ বিষয়ক একখানা কিতাব রচণা করেছিলেন যার নাম হচ্ছে ‘আততানভীর ফী মাওলাদে বাশীরুন নাযীর’। এতে রাজা সন্তুষ্ঠ হয়ে তাকে এক হাজার দিনার উপহার দিয়েছিলেন। এ কারণে সব ইমামগণ আরবলের রাজার খুব প্রশংসা করেছেন। তাদের মধ্যে হাফিজ আবু শামাহ ও শায়খ নববীও রয়েছেন। শায়খ নববী তাঁর লিখিত ‘আল বায়েস আলা ইনকারিল বিদয়ে ওয়াল হাওয়াদেস’ গ্রন্থে বলেন, এ কাজটি তার দ্বারা খুব ভাল কাজরূপে অভিহিত হয় এবং এটি উদাহরণ বিশেষ। এ কাজের জন্য তার প্রশংসা করা এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।”
[সূত্রঃ আদ-দুরুল মুনাজ্জাম ফি হুকুমে আমলে মাওলাদিন নাবীয়্যিল আযম, পৃঃ ১৯৬-১৯৭] দেওবন্দী আলেমের রচিত এই কিতাবটি নিজে ডাউনলোড করে দেখুন সেখানে কি লিখা আছে
http://www.mediafire.com/download/za2ghxgbsc6645l/Milader+Hukum-Abdul+Hoque+Muhajire+Makki.pdf

উপরের আলোচনা থেকে দেখা গেল,
* বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার এবং আবু খাত্তাব উভয়ের নামের শেষে (রঃ) ব্যবহার করেছেন ইমাম ইবন কাসীর (রঃ) সহ আরও অনেকেই। অথচ ওহাবী ও দেওবন্দীরা তাদের ফাসিক হিসেবে উল্লেখ করে (নাউজুবিল্লাহ)।
* উপরের ইতিহাসের কোথাও কি বলা হয়েছে ‘আত-তানভির ফি মাওলিদিল বাশিরিন নাজির’ কিতাবটি মিলাদুন্নাবী (সাঃ) এর পক্ষে লিখা প্রথম কিতাব? উত্তর হল না। এর পক্ষে সর্ব প্রথম বই লিখেছিলেন বিখ্যাত মুহাদ্দীস Imaam Abdur Rahmaan Bin Umar Auzaa’ee (156 AH)।

সহস্রাব্দের মুজাদ্দিদ আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নামে বানোয়াট উক্তি প্রচার করল দেওবন্দী/কাওমী/হিফাজতিরা। লিন্ক:-
http://www.monthlymueenulislam.com/sp_details.php?id=51

দেওবন্দী/কাওমী/হেফাজতিদের গুরু জুনায়েদ বাবু নগরী তার মিলাদ বিরোধী লিখায় উপমহাদেশের মুজাদ্দিদ আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে একজন মিলাদ বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে লিখে
///ইমামুল হিন্দ হযরত শায়েখ আহ্মদ সরহিন্দী মুজাদ্দিদে আল্ফে সানী হানাফী (রাহ্.) যাঁকে মীলাদ সমর্থক আলেমগণও মুজাদ্দিদ বলে স্বীকার করেন,তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়,মীলাদ মাহ্ফিল অনাচার মুক্ত হলেও তাতে দোষের কিছু আছে কি?তিনি বলেন, “আমি মনে করি,যতক্ষণ পর্যন্ত এর দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ হবে না,স্বার্থপর লোকেরা এর থেকে বিরত থাকবে না।যদি এর কিঞ্চিৎ জায়েয হওয়ার ফাত্ওয়া দেওয়া হয়,,তবে জানি না ব্যাপারটি ক্রমশঃ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।” (মাকতুবাতে ইমাম রব্বানী,দপ্তর-৩,মাকতুব-৭২)///

এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। প্রকৃতপক্ষে মুজাদ্দিদ আলফে সানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি যা বলেন তা স্ক্যান কপিসহ আপনাদের সামনে পেশ করছি

মির্জা হুসামুদ্দিন আহমেদ এর মিলাদ বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,

نفس قرآں خواندن بصوتِ حسن و در قصائد نعت و منقبت خواندن چہ مضائقہ است؟ ممنوع تحریف و تغییر حروفِ قرآن است، والتزام رعایۃ مقامات نغمہ و تردید صوت بآں، بہ طریق الحان با تصفیق مناسب آن کہ در شعر نیز غیر مباح است. اگر بہ نہجے خوانند کہ تحریفِ کلمات قرآنی نشود. . . چہ مانع است؟-

অর্থঃ সুন্দর কন্ঠে কুর’আন তিলাওয়াত, নাত শারীফ পাঠে এবং মানকাবাত (ওলী-আল্লাহ এর প্রশংসামূলক কবিতা) পাঠে ভুল কি? নিষেথাজ্ঞা কেবল তখন প্রযোজ্য হবে যদি কুর’আন শারীফের শব্দ পরিবর্তন করা হবে, কুর’আন শারীফ এমনভাবে পাঠ করা যেন মনে হচ্ছে কেউ গান শুনে তালি দিয়া হচ্ছে যার অনুমতি নেই। যদি মিলাদ এভাবে পাঠ করা হয় যেন কুর’আন শারীফ সঠিকভাবে পাঠ করা হয়, কাসিদা গুরুত্বের সহিত সঠিকভাবে পাঠ করা হয় তাহলে এখানে ক্ষতি কি?
My friend, strict measure is to be taken to close the door [of carelessness], otherwise there is a famous saying that small things results in big matter”
[সূত্রঃ মাকতুবাত শারীফ (উর্দু) ভলি ০৩, চিঠি নং ৭২, পারসিয়ান দাফতার সোম, হিসসা হাশতাম]

কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে নিচের লিঙ্কে গিয়ে স্ক্যান কপি নিজের চোখ দেখুন
http://www.islamieducation.com/imam-rabbani-on-mawlid/

বিখ্যাত “মাকতুবাত শারীফ” কিতাবটির কিছু খন্ড ইতিমধ্যেই নেটে আপলোড করা হয়েছে বাংলা ভাষাভাষিদের জন্য। ডাউনলোড করতে এবং পরবর্তি খন্ডগুলো পেতে চোখ রাখুন এই লিঙ্কে
http://khasmujaddedia.wordpress.com/মাকতুবাত-শরীফ/

বুখারী শারীফের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবন হাজর আসকলানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নামে বানোয়াট উক্তি প্রচার করল দেওবন্দী/কাওমী/হিফাজতিরা। লিন্ক:-
http://www.monthlymueenulislam.com/sp_details.php?id=51

দেওবন্দী/কাওমী/হেফাজতিদের গুরু জুনায়েদ বাবু নগরী তার মিলাদ বিরোধী লিখায় সহীহ বুখারী শারীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’ এর লেখক আল্লামা ইবন হাজর আসকলানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে একজন মিলাদ বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে লিখে
///আল্লামা হাফেজ ইব্নে হাজার আসক্বালানী শাফী (রাহ্.)কে প্রশ্ন করা হয়, মীলাদ অনুষ্ঠান কি বিদ্আত? না শরীয়তে এর কোন ভিত্তি আছে? জবাবে তিনি বলেন, “মীলাদ অনুষ্ঠান মলতঃ বিদ্আত। তিন পবিত্র যুগের সালফে সালিহীনের আমলে এর অস্তিত্ব ছিল না।” (হিওয়ার মাআল মালিকী-১৭৭ পৃষ্ঠা)।///

আসুন এবার ইমাম ইবন হাজর আসকলানী (রঃ) সম্পূর্ণ মন্তব্য দেখা যাক আরবী বই এর স্ক্যান কপিসহ

শায়খুল ইসলাম ও মুহাদ্দীস ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে মহানবী (দ:)-এর মীলাদ দিবস উদযাপন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি লিখিতভাবে যে উত্তর দেন তা নিম্নরূপ: “মীলাদুন্নবী (দ:) উদযাপনের উৎস বলতে এটি এমন এক বেদআত (উদ্ভাবন) যা প্রথম তিন শতকের সালাফ আস্ সালেহীন (পুণ্যাত্মাবৃন্দ) কর্তৃক আমাদেরকে জ্ঞাত করানো হয় নি, যদিও এতে প্রশংসনীয় ও প্রশংসনীয় নয় উভয় দিকই বিদ্যমান। কেউ প্রশংসনীয় দিকগুলো গ্রহণ করে প্রশংসনীয় নয় এমন দিকগুলো বর্জন করায় যত্নবান হলে তা বেদআতে হাসানা তথা কল্যাণময় নতুন প্রথা হবে। আর তা না হলে এর উল্টো হবে। এ বিষয়ের বৈধতা প্রতীয়মানকারী একটি নির্ভরযোগ্য শরীয়তের দলিল আমার সামনে এসেছে, আর তা হলো বুখারী ও মুসলিম শরীফে উদ্ধৃত সহীহ হাদীস যা’তে বর্ণিত হয়েছে যে মহানবী (দ:) মদীনা মোনাওয়ারায় হিজরত করে দেখতে পান সেখানকার ইহুদীরা ১০ই মহররম (আশুরা) তারিখে রোযা রাখেন। এমতাবস্থায় তিনি তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা উত্তর দেন, ‘এই দিনে আল্লাহতা’লা ফেরাউনকে পানিতে ডুবিয়ে মূসা (আ:)-কে রক্ষা করেন। তাই আমরা মহান প্রভুর দরবারে এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে রোযা রেখে থাকি।’ এই ঘটনা পরিস্ফুট করে যে আল্লাহতা’লার রহমত অবতরণের কিংবা বালা-মসীবত দূর হওয়ার কোনো বিশেষ দিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, সেই উদ্দেশ্যে বার্ষিকী হিসেবে তা উদযাপনের সময় নামায, রোযা, দান-সদকাহ বা কুরআন তেলাওয়াতের মতো বিভিন্ন এবাদত-বন্দেগী পালন করা শরীয়তে জায়েয। আর রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর মীলাদের (ধরণীতে শুভাগমন দিবসের) চেয়ে আল্লাহর বড় রহমত কী-ই বা হতে পারে? এরই আলোকে প্রত্যেকের উচিত হযরত মূসা (আ:) ও ১০ই মহররমের ঘটনার (দালিলিক ভিত্তির) সাথে সঙ্গতি রেখে মীলাদুন্নবী (দ:) দিবস উদযাপন করা; তবে যাঁরা এটি বিবেচনায় নেন না, তাঁরা (রবিউল আউয়াল) মাসের যে কোনো দিন তা উদযাপনে আপত্তি করেন না; অপর দিকে কেউ কেউ সারা বছরের যে কোনো সময় (দিন/ক্ষণ) তা উদযাপনকে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই বৈধ জেনেছেন। ”আমি মওলিদের বৈধতার দলিল সুন্নাহ’র আরেকটি উৎস থেকে পেয়েছি (আশুরার হাদীস থেকে বের করা সিদ্ধান্তের বাইরে)। এই হাদীস ইমাম বায়হাকী (রহ:) হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণনা করেন: ‘হুযূর পাক (দ:) নবুয়্যত প্রাপ্তির পর নিজের নামে আকিকাহ করেন; অথচ তাঁর দাদা আবদুল মোত্তালিব তাঁরই বেলাদতের সপ্তম দিবসে তাঁর নামে আকিকাহ করেছিলেন, আর আকিকাহ দু’বার করা যায় না। অতএব, রাসূলে খোদা (দ:) বিশ্বজগতে আল্লাহর রহমত হিসেবে প্রেরিত হওয়ায় মহান প্রভুর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্যে এটি করেছিলেন, তাঁর উম্মতকে সম্মানিত করার জন্যেও, যেমনিভাবে তিনি নিজের ওসীলা দিয়ে দোয়া করতেন। তাই আমাদের জন্যেও এটি করা উত্তম হবে যে আমরা মীলাদুন্নবী (দ:) দিবসে কৃতজ্ঞতাসূচক খুশি প্রকাশার্থে আমাদের দ্বীনী ভাইদের সাথে সমবেত হই, মানুষদেরকে খাবার পরিবেশন করি এবং অন্যান্য সওয়াবদায়ক আমল পালন করি।’ এই হাদীস পূর্বোক্ত মহানবী (দ:)-এর দ্বারা মীলাদ ও নবুয়্যত-প্রাপ্তির দিবস পালনার্থে সোমবার রোযা রাখার হাদীসকে সমর্থন দেয়।”
[হুসনুল মাকসাদ ফী আমলিল মওলিদ, পৃষ্ঠা ৬৩-৬৫] এবার মূল আরবী কিতাবের স্ক্যান কপি দেখুনঃ
১. http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=56
২. http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=57
৩. http://www.ahlus-sunna.com/index.php?option=com_content&view=article&id=46&Itemid=29&limitstart=58

এছাড়াও নিচের ভিডিও দেখুন ২২ মিনিট থেকে
http://www.youtube.com/watch?v=gd_zCvmQaeM

বর্তমান দেওবন্দীরা ইবন হাজর আসকলানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর নামে আংশিক বক্তব্য উপস্থাপন করলে কি হবে? দেওবন্দীদের অতীতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আলেম মাওলানা হাফিজ মুহাম্মদ আব্দুল হক এলাহাবাদী মুহাজিরে মক্কী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর স্বরচিত বিখ্যাত কিতাব “আদ-দুরুল মুনাজ্জাম ফি হুকুমে আমলে মাওলাদিন নাবীয়্যিল আযম” গ্রন্থের ২৪৭-২৪৮ পৃষ্ঠায় হুবুহু তাই বলেছেন যা আমরা উপরে বলেছি। কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকলে নিচের লিঙ্ক থেকে এই কিতাবটি ডাউনলোড করে নিজেই পড়ে দেখুন
http://www.mediafire.com/download/za2ghxgbsc6645l/Milader+Hukum-Abdul+Hoque+Muhajire+Makki.pdf

দেওবন্দীরা মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীকার করে না দেখে তারা তা পালন করে না। এদের পালন করতে কে বলেছে? কিন্তু তাই বলে এদের এভাবে জালিয়াতির কারণ কি? আসুন হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবু নগরীর মত ব্যক্তিদের আমরা কিছু না বলি। এদের ভার পরকালে আল্লাহ এর উপরেই ন্যস্ত করি। আল্লাহ তা’আলা ই নিজে উনার বিচার করবেন।

আল্লাহ তা’আলা এর কাছে দু’আ করি তিনি যেন আমাদের এদের হাত থেকে রক্ষা করেন এবং আমাদের সবাইকে তাঁরই হাবীবে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উসিয়া জান্নাত দান করে। আমীন! সুম্মা আমীন!!

Share This:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>